৩০০ বছরের গুড়ের হাট

জামান আখতার, চুয়াডাঙ্গা

শীতের পিঠা-পুলির অন্যতম উপকরণ খেজুরের গুড়। এ ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গার গুড়ের খ্যাতি দেশজোড়া। প্রতি বছরের মতো এবারও জমে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জের গুড়ের হাট। স্থানীয়দের দাবি, গুড়ের এ হাট ৩০০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ হাটে দূর-দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা আসেন খেজুরের নলেন গুড় ও পাটালি কিনতে। তাদের মাধ্যমে এ জেলার গুড় ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। যায় দেশের বাইরেও।

হাটসংশ্লিষ্টরা জানান, চুয়াডাঙ্গার খেজুরের গুড় ও পাটালির সুখ্যাতি দেশজোড়া। সেই খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর চলে আসছে জেলার কয়েকটি গুড়ের হাট। এসব হাটের মধ্যে সরোজগঞ্জের হাটটি দেশের অন্যতম বড় হাট। প্রতি বছর শীত মৌসুমে সারা দেশের ব্যাপারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সরোজগঞ্জের গুড়ের হাট। হাটের ইজারাদাররা বলেন, এ বছর সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ ট্রাক গুড় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছর ১০-১২ কেজি ওজনের এক ভার গুড় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। এ হাটের গুড়ের মান বেশ ভালো, তুলনামূলকভাবে দামও কম। ফলে সারা দেশেই চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়ের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এ হাটে গুড় বিক্রি হবে।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে এ হাটে সপ্তাহে কয়েক কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হয়। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গুড়ে চিনি মিশিয়ে চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়ের সুনাম ক্ষুণœ করছেন। হাটের সুনাম ধরে রাখতে গুড়ের মানের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন তারা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ব্যাপারী বিমল বিশ্বাস বলেন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে সরোজগঞ্জের হাটে ব্যাপারীরা আসেন। তবে কয়েক বছর ধরে চুয়াডাঙ্গার গুড়ে ভেজাল থাকায় এ বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গুড়ে ভেজাল প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, আমরা বরাবরই চাষিদের এ বিষয়ে সতর্ক করছি। চুয়াডাঙ্গা জেলার খেজুর গুড়ের সুমান ধরে রাখতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights