৩১ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ, মায়ের কোলে ফিরল ১১ মাসের ফাতেমা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় ১১ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই মাস পর পুলিশের অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
রবিবার দিনভর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, শিশুটিকে উদ্ধারে রোববার সকাল থেকে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে ডিবি। সকাল ৯টার পর সাদুল্লাপুর উপজেলার সারবাজার এলাকা থেকে হামিদুল নামে একজনকে আটক করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসের হেলপার মজিদকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোরশেদা নামে আরও একজনকে আটক করা হয়। সবশেষে মদনের পাড়া ছলেরমোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে শিশুটিকে নিরাপদে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন মা রুমানা আক্তার।
ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার বলেন, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে শিশুটিকে তার বাবা হামিদুল বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মা রুমানা আক্তার। তার অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে বিকেল ৫টার দিকে দুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে হামিদুল শিশুটিকে গাইবান্ধা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।
রুমানার দাবি, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর হামিদুল মোবাইল ফোনে তাকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি ওই টাকা দিতে পারেননি। এরপর হামিদুল মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন এবং শিশুটির সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হামিদুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটিকে ফিরে পেতে সম্প্রতি আদালতে মামলা করেন রুমানা আক্তার।
