৪৩ খাতে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা অব্যাহত
নিজস্ব প্রতিবেদক
রপ্তানি বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩টি খাতে নগদ সহায়তা (রপ্তানি প্রণোদনা) অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রপ্তানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা কার্যকর হবে। রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ এ বিষয়ে বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, সরকারের বিদ্যমান নীতির ধারাবাহিকতায় ৪৩টি রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা বহাল থাকবে। রপ্তানিকারকদের আবেদন নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী নিরীক্ষা শেষে প্রণোদনা পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান সার্কুলার ও নির্দেশনাগুলোও কার্যকর থাকবে।
সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা পাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটপণ্য, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, আলু, হালকা প্রকৌশল পণ্য, শতভাগ হালাল মাংস ও মাংসজাত পণ্য এবং অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি রপ্তানি খাত। এ ছাড়া হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিতে বরফের আবরণ অনুযায়ী ৪ থেকে ৮ শতাংশ এবং হিমায়িত অন্যান্য মাছ রপ্তানিতে ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন ও জুট পার্টিকেল বোর্ড, কাগজ, বীজ, আসবাবপত্র, আগর-আতর এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত রপ্তানি পণ্যে ৮ শতাংশ প্রণোদনা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্লাস্টিক পণ্য, জাহাজ, পিইটি বোতল ও ফ্লেক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, সফটওয়্যার, আইটিইএস, মোটরসাইকেল, ফটোভোল্টাইক মডিউল, সিরামিক, গ্যালভানাইজড শিট, ভোক্তা ইলেকট্রনিকসসহ বেশ কয়েকটি খাতে ৫ থেকে ৬ শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতেও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ, নতুন বাজারে রপ্তানিতে ২ শতাংশ, বিশেষ নগদ সহায়তা ০ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ইউরোপীয় অঞ্চলে রপ্তানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) এবং হাইটেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের জন্যও আগের নীতিমালা অনুযায়ী ২ শতাংশ এবং কিছু ক্ষেত্রে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় এবং রপ্তানি বাজারে চাপের মধ্যে প্রণোদনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত রপ্তানিকারকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করবে। তবে প্রণোদনার পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
