৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খেলতে হবে এমবাপেদের

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে এটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তপ্ত ম্যাচ হতে পারে। দেশটির আর্দ্রতা বা হিউমিডিটিসহ হিসাব করা ‘হিট ইনডেক্স’ বা তাপীয় সূচক ৩৭ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০০-১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির সময় ফুটবলারদের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অনুভূত হবে। ফিফার বর্তমান তাপসংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা’ ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (৮৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পৌঁছালে যেকোনো ম্যাচ স্থগিত করা হতে পারে। শনিবার তাপমাত্রা এই সীমার ওপরে থাকার পূর্বাভাস রয়েছে, যা ফুটবলার, কর্মকর্তা ও দর্শকদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এনএফএল-এর দল ‘ফিলাডেলফিয়া ঈগলস’-এর হোম ভেন্যু ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ৬৭,৫৯৪ জন এবং এটি একটি খোলা (ছাদবিহীন) স্টেডিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের আবহে এই ভেন্যুর সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ফিফা উচ্চ তাপমাত্রার আশঙ্কা থাকা ম্যাচগুলোর জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও ছাদযুক্ত স্টেডিয়াম নির্ধারণ করেছিল। এছাড়া বিশ্বকাপ ফাইনাণের মেটলাইফ স্টেডিয়ামেও কোনো ছাদ নেই।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ‘হিট ল্যাব’-এর পরিচালক ভারত ভেঙ্কট অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, অত্যন্ত গরমের দিনে যখন শরীর থেকে প্রচুর শক্তি ব্যয় হয়, তখন তাপজনিত অসুস্থতা বা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে সৃষ্ট মানসিক বিভ্রান্তি বা অসংলগ্নতা খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফিফা জানিয়েছে, তীব্র গরমের মধ্যে দর্শকদের স্বস্তি দিতে তারা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘কুলিং টেন্ট’ বা শীতল রাখার বিশেষ তাঁবু স্থাপন এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ফিফার এক মুখপাত্র ‘দ্য ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার’-কে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন, তাপমাত্রা মোকাবিলার একটি পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতির মাধ্যমে ফুটবলার, রেফারি, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফিলাডেলফিয়া শহর কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতার মাধ্যমে ফিফা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং স্মরণীয় টুর্নামেন্ট উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।

এমন পরিস্থিতিতে এমবাপে নাকি আবারও চমক দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে প্যারাগুয়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights