“৫ই আগষ্ট ও আমাদের অর্জন “
হাসিনা মরিয়ম
আজকাল তো শুধু একটা কথাই শোনা যায় টকশোতে সরকারের কড়া সমালোচনা,পত্রিকা খুললে দেখা যায় সরকারের ব্যর্থতা,সরকার কিছু করছে না, আগেই ভালো ছিলো, আসলেই কি ভালো ছিল এ দেশের মানুষ..? এখন কথায় কথায় মামলা হচ্ছে না, গুম হচ্ছে না, মানুষ আতঙ্কে থাকছে না,কি জানি কখন কোন অপরাধে গুম নিখোঁজ হয়ে যায়, আয়না ঘরের আতঙ্ক নেই, সাদা পোশাকের পুলিশের কর্মতৎপরতা এখন আর চোখে পড়ছে না যা বিগত সরকারের আমলে অহরহ ঘটতো, তারপরও আমরা তৃপ্ত না,
বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে আমাদের ব্যংকগুলো দেউলিয়া হয়ে যায়,ব্যংকগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, বিদেশি ঋণের বোঝা পরিশোধ এ সাফল্য অর্জন করেছে, রেমিট্যান্স রেকর্ড ভেঙেছে,বিনিয়োগ বেড়েছে ১১৪ শতাংশ, রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন, ৩০ বিলিয়ন ছুয়েছে,
ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৮ শতাংশ,
বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেওয়ার ব্যর্থতা উপেক্ষিত নয়,তবে যে কারণে এই ব্যর্থতা, দেশে বই মূদ্রনের প্রয়োজনীয় কাঠামো ধ্বংস করে ভারত থেকে বই ছাপা হয়েছে, নিজেদের মূদ্রনের সক্ষমতা নষ্ট করার সেই গ্লানি মুছে দেশের মূদ্রন কাঠামো ঠিক করে নিজেদের ছাপাখানায় ফিরিয়ে আনা বড় একটা সাফল্য বর্তমান সরকারের, উপরন্তু পাঠ্য বইয়ে ব্যপক পরিমার্জন করতে হয়েছে,
এছাড়া বানিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষতার সঙ্গে দর কষাকষি করে বাংলাদেশের শুল্ক ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে নির্ধারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, এই অসামান্য সাফল্য অর্জন করা যে কোনো মানদণ্ডে এটা কুটনৈতিক বড় সাফল্য,
মব শব্দটির প্রচলন ঘটেছে কিছুদিন ধরে, অথচ বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের পনের বছরের দুঃশাসনের আমলে অসংখ্য ঘটনাবলীর নির্মমতা ও “মব” এর মর্যাদা পায়নি,
আইন শৃঙ্খলার কাংখিত উন্নতি হয়নি কারণ হাসিনার সাজানো প্রশাসন কোনো রকম সহযোগিতা না করে সরকারকে বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে,এইসব পরিস্থিতির মোকাবিলা করে এই সরকারকে পথ চলতে হয়েছে,তাছাড়া বারবার বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রতো আছেই,সরকারকে অস্থিতিশীল করার নানা মুখী অপতৎপরতা চলমান,
প্রায় দুই সহস্রাধিক ছাত্র জনতার আত্মদানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার পতন হয়,তারপর ৮ই আগষ্ট বিশ্ব নন্দিত ব্যক্তিত্ব ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের সরকার দায়িত্ব নেন,
এতো কিছুর পরও সরকারের অর্জন কম নয়,প্রতিটা সংস্থাকে সংস্কার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে, স্বৈরশাসক হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার শুরু করেছে, এতো অল্প সময়ে এতো অর্জন বিগত কোন সরকারের আমলে চোখে পড়েনি,প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে দূর্নীতি, এই ভঙ্গুর ও বিগত সরকারের সাজানো দূর্নীতিবাজ প্রশাসন নিয়ে কাজ করা সহজ নয়, প্রতিটা সেক্টরে সরকারকে লড়তে হচ্ছে,লিখতে গেলে অনেক কিছু লিখতে হবে, তারপর ও এই অল্প সময়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক, কতটা সফল হবেন এই সরকার তা জাতি একদিন মূল্যায়ন করবে,
জুলাই বিপ্লব সার্থক হবে যদি এই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়,বিপ্লবের সার্থকতা নিহিত হবে যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়,জুলাই ঘোষণাপত্র শুধু একটা ঘোষণা পত্র না,এটা জুলাই বিপ্লবী শহীদ ও যাদের ত্যাগ এ এই বিজয় অর্জিত হয়েছে তারা যেই সুশাসনের দেশ চেয়েছে, জুলাই ঘোষণা পত্র তারই প্রতিফলন।।
