৬১ জেলায় একযোগে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু

অনলাইন ডেস্ক

দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে একযোগে দেশের ৬১ জেলায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিচ্ছেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী। প্রার্থী ও পদের সংখ্যার বিবেচনায় এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরকারি চাকরির পরীক্ষা।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ঠেকাতে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

কড়া নজরদারির মধ্যেও প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। রংপুরসহ কয়েকটি জেলা থেকে কয়েকজনকে আটক করা হলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি, তারা প্রশ্নফাঁস নয়, ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করছিলেন।

এর আগে ‘হিসাব সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়েছে। এতে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো খবরগুলো প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, দেশে বিপুল সংখ্যক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার সহকারী শিক্ষক বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পদোন্নতি হলে আরও হাজারো পদ শূন্য হবে। তাই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

এবার মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। গড়ে প্রতিটি পদের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights