৭০ বছর বয়সে যমজ শিশু জন্ম দিলেন নারী

অনলাইন ডেস্ক
উগান্ডার এক নারী ৭০ বছর বয়সে যমজ শিশুর মা হয়েছেন। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার ওমেন’স হসপিটালে ইন ভিট্রো ফারটিলাইজেশন পদ্ধতিতে মা হয়েছেন সাফিনা নামের ওই নারী।

বিবিসির খবর অনুসারে, এ পদ্ধতি সাধারণ গর্ভধারণের চেয়ে কিছুটা আলাদা। ৭০ বছর বয়সে নারীর ডিম্বাণু উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং ওই নারীর ডিম্বাণুর মাধ্যমে গর্ভধারণ সম্ভব নয়। তাই এ পদ্ধতিতে অন্য এক নারীর ডিম্বাণু ও তার সঙ্গীর শুক্রাণুর মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়েছে। পরে সাফিনার গর্ভাশয়ে ভ্রূণ স্থাপন করা হয়। এতে গর্ভবতী হন তিনি।

এ বিষয়ে সাফিনা বলেছেন, তরুণ বয়সে গর্ভধারণ করতে পারিনি। যাদের লালন-পালন করেছি, তারা কেউ আমার নিজের সন্তান নয়। ওরা বড় হওয়ার পর আমি একা হয়ে যাই। সন্তান জন্মদানের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই বৃদ্ধ বয়সেও আগ্রহী হই। এটা অলৌকিক ঘটনা।
এ বিষয়ে সাফিনার চিকিৎসক বলেন, এই বয়সে কোনো নারীর ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু অবশিষ্ট থাকে না। এক্ষেত্রে আমরা ডোনার খুঁজে বের করি ডিম্বাণুর জন্য। সাফিনার শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তাকে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হয়।

অবশ্য নিজের ডিম্বাণু থেকেও ভ্রূণ হওয়ার সুযোগ থাকে, যদি ডিম্বাণু আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়। অধিক বয়সে মা হওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতাই কমতে থাকে। তাই বেশি বয়সে সন্তান ধারণ করলে নানা ধরনের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন মাতৃত্বের ঝুঁকি বাড়ায়, তেমনি মারাত্মক রক্তশূন্যতার ঝুঁকিও থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights