আড়াই মাসেও আইডি কার্ড পায়নি জবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা, চরম ভোগান্তি
লিমন ইসলাম, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তির আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও প্রথম বর্ষের (১৮তম আবর্তন) শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড এমনকি আইডি নম্বরও পায়নি। এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের মূল বা হার্ড কপিও হাতে পায়নি তারা। রেজিস্ট্রার দপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলের সমন্বয়হীনতার জন্যই শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড এর হার্ড কপি তৈরির কাজ আটকে আছে বলে জানা গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রায় আড়াই মাস আগে ২০২২-২০২৩ সেশনে ভর্তি হলেও এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের মূল কপি হাতে পাননি। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলেও এখনও তাদের আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়নি। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগে দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষাও শুরুর তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় আড়াই মাস পর এক সেমিস্টার শেষের পথে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড হাতে না পাওয়ায় হতাশ শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বোর্ড বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সোমবারের (১৩ নভেম্বর) মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নির্ধারিত ফরমটি একাডেমিক অথবা বৃত্তি শাখায় জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে ফরমটিতে আইডি নম্বরের তথ্য চাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বৃত্তির কাগজ নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে না পেরে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড প্রিন্ট এর কাজটি করতো রেজিস্ট্রার দপ্তর। তবে এখন আইটি সেলকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অনুমতি ব্যতীত কাজটি করতে পারবে না। আর এই দীর্ঘ সময়েও কোনো দপ্তরই আইডি কার্ড প্রিন্ট এর উদ্যোগ নেয়নি। এ সমন্বয়হীনতার ফলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর কেউই আইডি কার্ডের হার্ড কপি পায়নি।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড না থাকায় বিভিন্ন সময়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। গণপরিবহনে ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ছাত্র সুবিধা না নিতে পারায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্টুডেন্ট পোর্টালে লগইন করার জন্য আইডি নম্বরটাও পায়নি তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেলাম আড়াই মাস পেরিয়ে গেলো পরীক্ষাও চলে আসছে এখনও আইডি কার্ড পেলাম না। আমি যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তার কোনো পরিচয়ও বাইরে দিতে পারিনা আইডি কার্ড না থাকায়। কবে যে আইডি কার্ড হাতে পাবো তা জানা নেই।
সমাজকর্ম বিভাগের সেলিম রেজা সীমান্ত নামের আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড না থাকায় বাসে হাফ পাশ দিতেও সমস্যা হয়। আমাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না। আমাদের এতো দিন হয়ে গেলো, এখনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের আইডি কার্ড হাতে দিতে পারলো না। এটা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে খুব কষ্টের একটা বিষয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান মুনিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডটা আমাদের খুবই প্রয়োজন। এখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এই সময়ে অন্তত আইডি কার্ডটা থাকলে আমাদের কিছুটা হলেও রেহাই মিলতো।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সালসাবিল ইসলাম প্রত্যাশা বলেন, অবরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বাস চলে না। আমাদের লোকাল বাসে আসতে হয়। সেক্ষেত্রে আইডি কার্ডটার প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করি।
আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী তিথী ইসলাম বলেন, অবরোধের মাঝে বৃত্তির কাগজ জমা দিতে এসেছি। আইডি কার্ড বা নম্বর না থাকায় ফ্রম ফিলাপ করতে পারিনি। এখন বিভাগে জমা দিয়ে এসেছি। আইডি কার্ডটা পেলে গেলে অনেক সুবিধা হতো।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড প্রিন্ট এর কাজ এখন আমারা করি। ইতিপূর্বে তা রেজিস্ট্রার দপ্তর করতো। তবে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে অনুমতি সাপেক্ষে নোটিশ না পেলে আমরা কাজ করতে পারবো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলে দিলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্যের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি খুব শীগ্রই শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড নিজ নিজ বিভাগ থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, “আইডি কার্ড পেতে দেরী হলেও আইডি নম্বরের তালিকা খুব দ্রুতই একাডেমিক শাখা থেকে প্রত্যেক বিভাগ এবং ইন্সটিটিউটে পাঠানো হবে। আইটি সেলের কাজ শেষ হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে আইডি কার্ড পৌঁছে যাবে। বৃত্তির কাগজপত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো হয়েছে।”
