রেড ডায়মন্ডসকে উড়িয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যান সিটি

অনলাইন ডেস্ক

প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে বেশ লড়াই করতে হলো ম্যানচেস্টার সিটিকে। তবে ডেডলক খুলে যাওয়ার পর তাদের আর আটকে রাখতে পারল না উরাওয়া রেড ডায়মন্ডস। অনায়াস জয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।

কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে সেমিফাইনালে ৩-০ গোলে জিতেছে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে এদিনও ছিলেন না সিটির গত মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্লিং হালান্ড। তবে তাতে ভাবনায় পড়তে হয়নি তাদের; প্রতিপক্ষের ভুলে এগিয়ে যাওয়ার পর বাকি দুটি গোল করেন মাতেও কোভাচিচ ও বের্নার্দো সিলভা।

সোমবার প্রথম সেমি-ফাইনালে মিশরের ক্লাব আল আহলিকে ২-০ গোলে হারায় ব্রাজিলের দল ফ্লুমিনেন্সে। এই মাঠেই শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) শিরোপা লড়াইয়ে কোপা লিবের্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন ফ্লুমিনেন্সের মুখোমুখি হবে ইংলিশ ক্লাবটি।
আগের আট ম্যাচে মাত্র তিনটিতে জেতা সিটি এখানে প্রত্যাশিতভাবেই আক্রমণাত্মক শুরু করে। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণে যদিও তাদের আক্রমণগুলো বারবার ভেস্তে যাচ্ছিল। পঞ্চদশ মিনিটে বাঁ দিক থেকে জ্যাক গ্রিলিশের পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শট নেন বের্নার্দো সিলভা। কিন্তু ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায় বল। চার মিনিট পর ফের গ্রিলিশের ক্রস বক্সে সিলভাকে খুঁজে পায়, এবার গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।

৩১তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো সিটি। তবে দুরূহ কোণ থেকে মাথেউস নুনেসের জোরাল শট দারুণ নৈপুণ্যে রুখে দেন নিশিকাওয়া। দুই মিনিট পর ফিল ফোডেনের শটও ঠেকিয়ে দেন এই জাপানিজ গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় নিজেদের সীমানাতেই আটকে ছিল উরাওয়ার খেলোয়াড়রা। বিরতির আগে গোলের উদ্দেশ্যে একটি শটও নিতে পারেনি তারা।

প্রতিপক্ষকেও অনেকটা সময় ঠিকঠাক বেঁধে রাখতে পেরেছিল উরাওয়া। কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভুল করে বসেন ডিফেন্ডার হেইব্রটেন। ডান দিক থেকে নুনেসের ছয় গজ বক্সে বাড়ানো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে ঠেলে দেন নরওয়ের এই খেলোয়াড়।

দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কোভাচিচ। কাইল ওয়াকারের পাস ধরে গতিতে একজনকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এরপর জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুবার ও চেলসির হয়ে একবার ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ী এই ক্রোয়াট মিডফিল্ডার। তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়তে পারতো; কিন্তু গ্রিলিশের ক্রসে খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড করেন নুনেস।

তৃতীয় গোলের জন্য অবশ্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি সিটিকে। ৫৯তম মিনিটে নুনেসের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে শট নেন সিলভা, একজনের পায়ে লেগে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে জড়ায়। শেষ দিকে কিছুটা আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করে উরাওয়া। যদিও সিটির গোলরক্ষক এদেরসনকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights