পটিয়ায় সামশু’র রাহু থেকে মুক্তি চায় সাধারণ মানুষ

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে সামশুল হক চৌধুরী সামশু’র রাহু থেকে মুক্তি চায় সাধারণ জনগণ। বিগত সময়ে এ আসন থেকে সামশু এমপি নির্বাচিত হয়েই গঠন করে ‘সামশু লীগ’। এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল-বেদখলের নেতৃত্ব রয়েছে ‘অন্ধকার এ রাজ্যের রাজপুত্র’ খ্যাত সামশুপুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুন। তার সারথী হিসেবে রয়েছে সামশুর দুই ভাই নবাব, মহব্বত এবং বোন রেখা।

১৫ বছর ধরে সামশু রাহু গ্রাস করে খেয়েছে পটিয়াকে। বার বার বিতর্কে জড়িয়ে পড়া সামশু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাই বঞ্চিত হয়েছেন দলীয় মনোনয়ন থেকে। এরই মধ্যে তার দুশাসন থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ লোকজন মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী পক্ষে।

পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম শামসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সামশুর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। চাঁদাবাজি, টেন্ডার, সংখ্যালঘুদের জায়গা দখলসহ সবই করেছে সামশু ও তার পরিবারের লোকজন। তার ইন্ধনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা এ এলাকার জন্য নিত্য ঘটনা।
জানা যায়, বিগত ১৫ বছরে নিজের অবৈধ আয়ের পথ একে একে প্রসারিত করেছে সামশু ও তার পরিবারের লোকজন। সরকারি প্রকল্পের নয়-ছয় ছিল তারা সিদ্ধহস্ত। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই প্রকল্পের কয়েক হাজার কোটি টাকার খাল খনন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পটিয়া বাইপাস সড়ক, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের পটিয়া অংশের সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম ওয়াসার ওয়াটার রিজার্ভার, কৈয়গ্রাম-উজিরপুর বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রকল্প অসংখ্য প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাত করে পথে বসিয়েছে পটিয়ার হাজার হাজার মানুষকে।

মানুষের জমির মাটি কেটে বিক্রির টাকা নিজেদের পকেটে ঢুকিয়েছে। এসবের ক্ষতিপূরণ চাইতে গিয়ে তার লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে অনেককে।

এদিকে সামশুপুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুনের বিরুদ্ধে নেই অভিযোগের শেষ। এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন গ্রহণ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য অপরাধী চক্রকে লালন পালনের অভিযোগ রয়েছে শারুনের বিরুদ্ধে। পটিয়ার ইন্দ্রপুল, মেলিটারিপুল এবং ভেল্লাপাড়া এলাকায় বড় বড় তিনটি বালু মহলের নিয়ন্ত্রণেও রয়েছেন শারুন।

হুইপের ভাই ফজলুল হক চৌধুরী মহব্বত ও নবাবের বিরুদ্ধেও নেই অভিযোগের শেষ। বিরোধপূর্ণ জায়গা জমি দখল বেখল, শালিশ-বিচারের নামে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, থানা ও উপজেলা প্রশাসনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights