বন ছেড়ে লোকালয়ে হাতি
ইমরান এমি, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে হাতি। আগে যেসব এলাকায় হাতি আসতো না, এখন সেখানে হাতির নিয়মিত পথচলা। আর হাতির বিচরণে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। ক্ষতি হচ্ছে বসতবাড়ি, কৃষি জমিও।
গবেষকরা বলছেন, বন জঙ্গল কাটা ও হাতির খাদ্যের অভাবের কারণে লোকালয়ে চলে আসছে। হাতির খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও বেশি লোকালয়ে হাতির বিচরণ দেখা যাবে। এ ছাড়াও হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সনাতন পদ্ধতিতে হাতি তাড়ানোর কৌশল এবং কৌশলে বৈদ্যুতিক তারে হাতি তাড়ানোর নামে মৃত্যু বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আনোয়ারা, কর্ণফুলী-বাঁশখালী হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত এক সময় হাতির বিচরণ ছিল। এটি হাতির করিডোর হিসেবে এক সময় ব্যবহৃত হতো। কিন্তু পর্যাপ্ত খাবার ও চলাচল করতে না পারার কারণে তারা লোকালয়ে চলে আসতেছে। কারণ হাতির স্মৃতি শক্তি প্রকট। এ ছাড়াও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বসতি ও রেললাইনের কারণে হাতি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। রেললাইনের উপর হাতি চলাচলের জন্য রাস্তা করলেও তাতে এখনো অভ্যস্ত হতে পারেনি।
জানা যায়, ১৯৮৩ সালে মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১১ হাজার ৬১৫ হেক্টর বনকে বন্যপ্রাণী জোন করে এশিয়ান হাতির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্য হাতির চলাচলের করিডোর হিসেবে ১৯৮৬ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া উপজেলার ৭৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হয় চুনতি অভয়ারণ্য। এর বাইরে বান্দরবানের লামা, রাঙামাটির কাপ্তাইসহ বিভিন্ন পাহাড়ে হাতির আবাসস্থল রয়েছে।
জানা গেছে, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হাতি মিয়ানমারে যায়, সেখানে থাকে। এরপর আবার কক্সবাজারের টেকনাফে, লোহাগাড়ার চুনতিতে ফিরে আসে। সেখান থেকে আবার পার্বত্য অঞ্চলে যায়। মিয়ানমারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই হাতিগুলো এখন বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া এমনকি পাহাড়ি পথে বোয়ালখালী পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। লোকালয়ে এসে হাতি ঘরবাড়ি-ফসলের ক্ষেত ধ্বংস করছে, পাশাপাশি মানুষের ওপরও আক্রমণ করছে হাতি। তবে একসময় হাতি লোকালয়ে আসত বছরে হাতেগোনা দু’তিনবার।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে হয়েছে শতবারের কাছাকাছি। এদিকে গত ১০ বছরে আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জনেরও অধিক। বিশেষ করে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান, দোলতপুর, মিয়ারহাট, দক্ষিণ শাহমীরপুর, আনোয়ারা উপজেলার গুয়াপঞ্চক, বৈরাগ, মোহাম্মদপুর, ফকিরখিল, বটতলী, হাজিগাঁও, গুচ্ছগ্রামে বিগত বছরগুলোতে তিন শতাধিক পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
