অবৈধ অভিবাসী তাড়াতে ন্যাশনাল গার্ড-সেনাবাহিনী মোতায়েনের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

১৯৫৪ সালে প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ার বিশেষ এক অভিযানে ১০ লক্ষাধিক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তেমনিভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হলে ২ কোটি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার ও বহিষ্কারে কোন কালক্ষেপণ করবেন না হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের ৩০ এপ্রিল সংখ্যায় এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ‘হাউ ফার ট্রাম্প উড গো’ শীর্ষক এ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, প্রথম মেয়াদের মত দ্বিতীয় মেয়াদে আর ভুল করবো না। দয়া এবং করুণার প্রশ্নই উঠে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে যা করা দরকার তা খুব দ্রুত করা হবে।

ট্রাম্প বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারের জন্যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ন্যাশনাল গার্ড এবং সামরিক বাহিনীকেও বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হবে। ২০১৭ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেক মানুষকে ঠিকমত চিনতে পারিনি বলে ভুল মানুষকে ভুল জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তাদের অনেকে পরবর্তীতে বেঈমানি করেছেন। সামনের নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে তেমন মানসিকতাসম্পন্ন কাউকে সাথে রাখবো না। কোন কারণে কেউ স্থান পেলেও জানামাত্র ফায়ার করবো। সে সময় আমি হৃদয়বান একজন মানুষ ছিলাম বলে অনেককে তাড়িয়ে দেইনি। কিন্তু সামনের দিনে সেই ভুল আর করবো না।
আগামী নভেম্বরে রিপাবলিকান পার্টির শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন জরিপে আবির্ভূত হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলাফল নির্ধারণী ৭ স্টেটের অধিকাংশেই বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে থাকায় ট্রাম্পের পুনরায় বিজয় নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই টাইম ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে নেয়া এ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প খোলাখুলি বলেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের ঘটনায় যারা শাস্তিভোগ করছেন তাদের প্রথম দফাতেই ক্ষমা করে দেবেন। এমনকি দোষ স্বীকার করে যারা জেল খাটছে অথবা সাজা ভোগের পর মুক্তিলাভ করেছে, তারাও পড়বেন সেই ক্ষমার আওতায়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডব করা হয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্টেটে অন্তত: ৪টি গুরুতর অপরাধের মামলা চলছে। সেগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে বলে আইন-বিশ্লেষকরা মতামত দিলেও জনমত জরিপে রিপাবলিকান পার্টির সিংহ ভাগ সমর্থকই ট্রাম্পের পক্ষে।

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ভূমিকা নতুন প্রজন্মের ভোটারসহ অনেক আমেরিকানকে ক্ষুব্ধ করেছে। ইসরায়েলে যদি ইরান হামলা করে তাহলে তার প্রশাসন ইসায়েলের পক্ষে দাঁড়াবে বলে উল্লেখ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২০২১ সালের ২০ জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে অধিষ্ঠিত হবার পর প্রতিদিন হাজার হাজার বিদেশী সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে। আগে থেকেই ১১ মিলিয়নের অধিক বিদেশী অবৈধভাবে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে সিংহভাগই ১৯৯২ সাল থেকে রয়েছে। সেই অবৈধ অভিবাসীদের সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেছিলেন নির্বাচনের আগে। তা করতে সক্ষম হননি এখন পর্যন্ত। অথচ অভিবাসী সমাজের প্রায় সকল ভোটারই গত নির্বাচনে বাইডেনকে সাপোর্ট দিয়েছেন ঐ সমস্যার আশু সমাধানের প্রত্যাশায়। সেটি ঝুলে থাকায় সামনের নির্বাচনে অভিবাসী সমাজের নিরঙ্কুশ ভোট থেকে বাইডেন চরমভাবে বঞ্চিত হবেন বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। এ অবস্থায় নানাভাবে বিতর্কিত ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় (চলমান মামলায় দীর্ঘদিনের জন্যে দণ্ডিত না হলে) প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হবেন বলে এক ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights