৩১০ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস

অনলাইন ডেস্ক
দ্বিতীয় দিনের প্রথম বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লেন শরিফুল ইসলাম। তাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের ১ম ইনিংসে ৩১০ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেছেন ওপেনার মাহমুদল হাসান জয়। এছাড়াও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন যথাক্রমে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক।

এর আগে প্রথম দিনের শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের অযাচিত কয়েকটি আউটে ব্যাকফুটে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৯০ রান তুলতেই হারিয়ে বসে ৯ উইকেট। শঙ্কা জাগে ৩০০ এর আগেই অলআউট হওয়ার। কিন্তু শরীফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলামের ব্যাটে ভর করে তিনশ পার করে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে গ্লেন ফিলিপস ৪টি উইকেট নিয়েছেন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন কাইল জেমিসন ও এজাজ প্যাটেল।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খুব একটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। ৩৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন এজাজ প্যাটেল। তার অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে পড়া বলে কাট করতে যান জাকির, কিন্তু জায়গা ছিল না এর জন্য। ৪১ বলে ১২ রান করে ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় জাকিরকে।

এরপর মাহমুদুলের সঙ্গী হন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি শুরু থেকেই ছিলেন কিছুটা মারমুখী। ৩৫ বলের ইনিংসে ছক্কাই হাঁকান তিনটি, অথচ গত ১৫ ম্যাচেও এতগুলো ছক্কা হাঁকাননি তিনি। এমন ব্যাটিংয়ে পর তার ইনিংসের শেষটা হয়েছে হতাশাতেই।

গ্লেন ফিলিপসের ফুলটস বল বেরিয়ে এসে খেলতে যান শান্ত। কিন্তু এগিয়ে আসায় ব্যাটের টাইমিংটা ঠিকঠাক করতে পারেননি। ব্যাখ্যাতীত শটে ডিপ মিড অনে দাঁড়ানো কেইন উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার আউটের পর ব্যাটার, বোলার ও ফিল্ডার সবার চোখেই ছিল বিস্ময়।

শান্ত আউট হওয়ার পর মুমিনুল হককে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরিও পেয়ে যান তিনি। তবে দারুণ ধৈর্য, মনোসংযোগের ইনিংসটি সেঞ্চুরি ছুতে পারেনি। ইশ সোধির বলে স্লিপে দাঁড়ানো মিচেলের হাতে ক্যাচ দেন মাহমুদুল। ১৬৬ বলের ইনিংসে ১১ চারে ৮৬ রান করে আউট হন তিনি।

তার আগেই অবশ্য সাজঘরে ফিরে যান মুমিনুল। ব্যাকফুটে কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ব্লান্ডেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে ৫ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় বাংলাদেশ।

নতুন ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী হন অভিষিক্ত শাহাদাৎ হোসেন দীপু। তারা দুজন ১০ বল খেলার আগেই দ্বিতীয় সেশন শেষ হয়। কিন্তু ফেরার পর মুশফিকুর রহিমও দায়িত্বহীনভাবে আউট হয়ে যান। এজাজ প্যাটেলের বলে উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে তেড়েফুড়ে খেলতে যান তিনি। কিন্তু ২২ বলে ১২ রান করা ব্যাটার মিড অফে দাঁড়ানো উইলিয়ামসনকে ক্যাচ দেন।

এমন হতাশার পর পরের তিন স্বীকৃত ব্যাটার সেটি বাড়িয়ে দেন আরও। কাইল জেমিসনের বাউন্সারে কী করবেন যেন বুঝেই উঠতে পারেননি মিরাজ, ক্যাচ দেন স্লিপে। ফিলিপসের বলে শান্তর মতোই অদ্ভুতভাবে আউট হন শাহাদাৎ।

তার নিচু হওয়া বল কবজির মোচড়ে খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়ানো হেনরি নিকোলসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৫৪ বল খেলে ২৪ রান করেন তিনি। শেষ স্বীকৃত ব্যাটার সোহানও আউট হন ফিলিপসের বলেই, লেগ স্টাম্পের বাইরের বল তার ব্যাটে লাগলে উইকেটরক্ষক ব্লান্ডেল দারুণ এক ক্যাচ নেন। টেস্ট অভিষেকে চার উইকেট পান তিনি।

তার বিদায়ের পর বাংলাদেশের রান তিনশতে নিয়ে যাওয়ার আশা দেখাচ্ছিলেন নাঈম হাসান। কিন্তু তিনিও জেমিসনের বেশ বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন। ৩ চারে ২৭ বলে ১৬ রান করেছিলেন নাঈম। কিন্তু শেষদিকে অলআউট হতে হয়নি বাংলাদেশকে। শেষ উইকেট জুটিতে ২০ রান করে অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ও তাইজুল ইসলাম। সেটি প্রথম বলেই শেষ হয়েছে দ্বিতীয় দিনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights