কোনারপাড়া ক্যাম্প থেকে আরও ৪৮১ রোহিঙ্গা স্থানান্তর

বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের তমব্রুর কাছাকাছি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থিত কোনারপাড়া ক্যাম্পের আরও ৫০ পরিবারের ৪৮১ জনকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে ৩ দফায় মোট ৭৩৫ জনকে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) এর মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তমব্রু এলাকা থেকে তাদেরকে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে নাম, পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পর ট্যাগ নম্বর লাগিয়ে তাদেরকে কক্সবাজার জেলার উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ নিয়ে ৪ দফায় কোনারপাড়া অনিবন্ধিত ক্যাম্পে ১ হাজার ২১৬ জনকে স্থানান্তর করা হলো।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন জিরো লাইনের কোনারপাড়ায় গড়ে উঠা অনিবন্ধিত ক্যাম্পে ৫৩০ টি পরিবারের ৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস ছিল।
২০১৭ সালে সেদেশের সেনাবাহিনীর অত্যাচারে টিকতে না পেরে বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে জিরো লাইনের কাছাকাছি কোনারপাড়ায় আশ্রয় নেয়। এ বছরের ১৮ জানুয়ারি দু’টি রোহিঙ্গা সংগঠন ‘রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ (আরসা) এবং ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন’ (আরএসও) এর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা এবং আগুন লাগিয়ে শিবিরের তাঁবু ও ঘরগুলো পুড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা আত্মরক্ষার্থে ক্যাম্প এলাকা ছেড়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তমব্রুর আশেপাশে আশ্রয় নেয়।

সরকারি সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথ উদ্যোগ নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের তমব্রু এলাকার দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে। সেখানে তাদের তালিকা করে মোট ২ হাজার ৯৭০ জন রোহিঙ্গা পাওয়া যায়। বিভিন্ন দফায় তাদেরকে কোনারপাড়া ও তমব্রু এলাকা থেকে সরিয়ে নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পসমূহে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান জানান, কোনারপাড়ায় অবস্থানকারী সব রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুনর্বাসন পর্যন্ত এই স্থানান্তর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights