শূন্যরেখায় বাংলাভাষীদের মিলনমেলা

অনলাইন ডেস্ক

‘বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের প্রাণ কাঁদে। তাই তো বারবার ছুটে আসি দুই দেশের বাঙলার বাংলাভাষী মানুষের পাশে। ভাষা দিবসের এই দিনে থাকে না কোন জড়তা। জয় বাংলা ধ্বনি দিতে আমাদেরও মন চায়। আমরা চাইনে কাঁটাতারের বেড়া। মিলে মিশে একাকার হয়ে থাকতে চাই যেমনটি করেছেন আমাদের পূর্ব পুরুষেরা।’ এভাবেই মনের আকুতি প্রকাশ করছিলেন পশ্চিবঙ্গের বারাসাত থেকে আসা দীলিপ বাড়ুই, হাবড়ার নমিতা দেসহ অনেকেই।

বেনাপোলের নোম্যান্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই বাংলার হাজার হাজার ভাষা প্রেমীদের মিলন মেলা। কাঁটাতারের বেড়া ভুলে সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায়।

মানুষের ঢল থামাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং বিজিবি বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নোম্যান্সল্যান্ডে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যগণ।
ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে কেবল ভাষার টানে দুই বাংলার মানুষ একই মঞ্চে তুলে ধরলেন বাংলা ভাষার জয়গান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ডে মঙ্গলবার সকাল ফুলের ডালিতে ভরে যায়।

দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সাংসদ আফিল উদ্দিন, সাবেক সাংসদ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে একটি টিম নোম্যান্সল্যান্ডে শহীদ বেদীর পাদদেশে পৌঁছালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, বিধায়ক শ্রীমতি বীনা মন্ডল,বিধায়ক শ্রী বিশ্বজিত দাস, বনগাঁও পৌর চেয়ারম্যান শ্রী গোপাল শেড, সাবেক সাংসদ মমতা ঠাকুরের নেতৃত্বে ভারত থেকে আসা হাজার হাজার বাংলাভাষী মানুষ বাংলাদেশিদের ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেয়।

এ সময় ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আহমেদ হাসান জামিল, ২১ উদযাপন কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু ও সচিব শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, এবং ভারতের পক্ষে বিশেষ অতিথি বনগাঁও পৌর সভার মেয়র শ্রী শংকর, উওর ২৪ পরগনা জেলার মেন্টর গোপাল শেড সহ অনুষ্ঠানে উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অংশ নেয়। ভারতীয় আমদানি ও রফতানিকারক সমিতি।

একপর্যায়ে দু’দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন।

শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

ফুলের মালা, মিষ্টি ও ফুল বিনিময় করে উভয় দেশের আবেগপ্রবণ অনেক মানুষ বাঙালি নাড়ির টানে একজন অপরজনকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। ক্ষণিকের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যায় নোম্যান্সল্যান্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights