রাজবাড়ীর পদ্মায় ইলিশ শিকারের মহোৎসব

দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী

১৩ অক্টোবর থেকে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারের মহোৎসব শুরু করেছে জেলেরা। নদী তীরে বেশ কয়েকটি স্থানে বসছে ইলিশ বিক্রির হাট। বেচা-বিক্রি হচ্ছে বেশ। পাইকার ক্রেতারা পদ্মার নদীর তীর থেকে ইলিশ ক্রয় করছে। এসব ইলিশ ফেরি করে বিক্রি করছেন রাস্তা-ঘাটে। প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানে সুযোগ নিয়ে রীতিমতো ইলিশ বিক্রির উৎসব চলছে পদ্মাপারে।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পিয়ার আলী মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার ইলিশ, পদ্মার ইলিশ বলে দুইজন পাইকার বিক্রেতা ফেরি করে ইলিশ বিক্রি করছেন। তারা বলেন, পদ্মার নদীর কাউয়ালজানি এলাকায় নদীতীরের হাট থেকে ইলিশ ক্রয় করে ফেরি করে বিক্রি করছি। পদ্মার তীরে অবাধে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা।
সেখান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে কাউয়ালজানি এলাকা। পদ্মা নদীতে তীরে প্রায় হাজার খানেক মানুষ। সেখানে অস্থায়ীভাবে বসছে চা, পান, সিগারেটসহ মিষ্টির দোকান। ইলিশ বিক্রির হাট উপলক্ষে বসছে এসব দোকান। অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ থেকে তারা দোকান স্থাপন করেছেন। সেখানে প্রায় অর্ধশত নৌকা বাঁধা রয়েছে। শতাধিক ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নদীতে মাছ শিকার করছেন জেলেরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৩ জন জেলে বলেন, পদ্মায় এই মৌসুমে অনেক ইলিশ ধরা পড়ছে। প্রতি নৌকায় দিন-রাত মিলিয়ে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার ইলিশ পাচ্ছেন জেলেরা। প্রতি কেজি ইলিশ ৫০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এখানে ১৩ অক্টোবর থেকে আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনের কোন অভিযান হয়নি। এখানে প্রায় দেড়শ নৌকা দিয়ে অবাধে পদ্মার ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। অনেকে জেলে পাবনা জেলা থেকে আসছেন এই অঞ্চলে। রিপোর্ট করলে তাদের ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে। একারণে প্রতিবেদন না করার অনুরোধ জেলেদের।
সাত্তার মন্ডল নামে এক জেলে বলেন, গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী সদর নদী ভাঙন কবলিত এলাকা। এই অঞ্চলের মানুষ গরীব। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইলিশ ধরছে তারা। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সরকারি অনুদান পাওয়ার অভিযোগ তাদের। তিনি আরও বলেন, সরকার দলীয়করণ করে সরকারি সহায়তা দিয়েছেন। বেশিরভাগ জেলে সেগুলো পায়নি। তাই ইলিশ শিকার করছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতা ঢিলেঢালা, যা নজিরবিহীন। বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও অভিযান ছিল। কিন্তু এ বছর তেমন অভিযান নেই। যে কারণে জেলেরা অবাধে ইলিশ শিকার করছেন।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোস্তফা আল রাজীব জানান, আমাদের কিছু জনবল সংকট রয়েছে। এছাড়া লজিস্টিক সাপোর্ট কম। তবে আমরা সাধ্যমতের ইলিশ রক্ষায় চেষ্টা করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights