নেত্রকোনায় আইসিটি পার্ক যেন শুভঙ্করের ফাঁকি!

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
উদ্বোধনের বছর পেরোলেও বাংলাদেশে হাইটেক পার্কের বাস্তবায়নাধীন নেত্রকোনা আইটি পার্ক (শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার) গেল সাত বছরেও দেখেনি অলোর মুখ। কাগজে কলমে হিসাব থাকলেও কোথায় কিভাবে প্রশিক্ষণ হয়েছে জানেন না বেশিরভাগ উদ্যোক্তা ও আইসিটি সংক্রান্ত ব্যবসায়ীরাও। যুবক উদ্যেক্তারা বলছেন এটি শুভঙ্করের ফাঁকি।

খোঁঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সনের ৭ ফেব্রুয়ারী বাস্তবায়িত সারাদেশের ৮টি আইটি ট্রেনিং সেন্টারের মধ্যে নেত্রকোনাও একটি। জেলা শহরের পুরাতন জেলখানা ভেঙ্গে এক দশমিক ১৩ একর জমিতে ৩৬ হাজার বর্গফুট বিশিষ্ট ৬ তলা আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার ভবন প্রায় ৫৫ দশমিক ১৬৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে। যা ৭৮০ জনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১৯৫০ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অফিসিয়ালি পার্ক নির্মাণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৪৫০জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। ৬০০ জনের কর্মসংস্থান ও আরও ৫০০ জনের প্রশিক্ষণ চলমান দেখালেও তার বাস্তব কোন হদিস পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের (২০২৪) ৩০ জুন হস্তান্তর করার কথা ছিলো।

ফ্রিল্যান্সার আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৯ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর ভবন উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এ পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নামকাওয়াস্তে কিছু প্রশিক্ষণ হলেও ল্যাব ছাড়া ল্যাবের প্রশিক্ষণ যেন শুভঙ্করের ফাঁকি। কোন রকম কম্পিউটারে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নিলেও মাঠে টিকে আছে নিজ দায়িত্বে ১৫ থেকে ২০ জন। বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে যতটা হয়েছে তার সবটাই যেন ঝরে পড়া। ভালো উদ্যোক্তা হওয়ার আশায় প্রেসক্লাবের বিল্ডিংয়ে রাসেল মিয়া বসেছেন কম্পোজের দোকান নিয়েই।
ব্যবসায়ী সুমিত সাহা বলেন, ভেবেছিলাম এটাকে ঘিরে আমাদের আইটি ব্যবসার ভালো একটি প্রসার ঘটবে। কিন্তু কারো কাছে গিয়ে কোন তথ্য বা পথ কিছুই পাইনি। তবে সিকিউরিটি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা সুজনের সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, প্রশাসনের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কার্যালয়েও এই আইটি পার্কের তথ্য বা সঠিক পরিসংখ্যান নেই। শুনেছিলাম লোক নিয়োগ হয়েছে। কারা কোথায় কি করেছে জেলা প্রশাসনও জানাতে পারেনি। এটার যে দুর্নীতি তা ক্ষতিয়ে দেখে বর্তমান সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে জেলার অইটিসি বিভাগ জানায়, এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি সেক্টর।

দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, এই আইসিটি ভবন নির্মাণ কমপ্লিট না হওয়ায় যুবক বা উদ্যোক্তারা ল্যাবের সুবিধা পাচ্ছে না বলে জেনেছি। এতো কালক্ষেপণের বিষয়ে আভিযোগ পেলে আমরা তা খতিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights