রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের বাম্পার আহরণ
ফাতেমা জান্নাত মুমু,রাঙামাটি
মাত্র আড়াই মাসে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মাছের বাম্পার আহরণ হয়েছে। ছাড়িয়েছে রাজস্ব আয়ের রেকর্ড। বৃদ্ধি পেয়েছে সব ধরনের মাছের উৎপাদন। গত ১ সেপ্টম্বর কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ার পর বৃদ্ধি পায় উৎপাদন। মাত্র আড়াই মাসে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ আহরণ হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। এতে রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যা গেলো বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
রাঙামাটি বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলধারা ও বাংলাদেশের প্রধান মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। যা দেশের মিঠা পানির মাছের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। এ হ্রদ থেকে আহরিত মাছ রফতানি করা হয় চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। যার সুফল ভোগ করে এ অঞ্চলের ২৬ হাজার মৎস্যজীবী পরিবার। বন্ধকালীন রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ হ্রদে ছাড়া হয় বিপুল পরিমাণ পোনা মাছ। এসব পোনা বড় হওয়ার পর মাছ শিকার শুরু হয়। বন্ধকালীন সময়ে কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন হয়েছে চাহিদার অধিক বলছেন মৎস্যজীবীরা। উৎপাদনও হচ্ছে বাম্পার। সরকারের রাজস্ব খাতে যেমন আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি দেশে মিঠা পানির মাছের চাহিদাও মিটছে, আর লাভবান হচ্ছে মৎস্যজীবীরা।
রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের উন্নয়ন ও বিপণী কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. আশরাফুল আলম ভূঁইয়া বলেন, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বিস্তারের কারণে বাম্পার আহরণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে তার জন্য বিএফডিসির সকল কর্মকর্তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাঙামাটি ফিসারিতে নিবন্ধিত মৎস্য ব্যবসায়ী আছে ৭৭জন। আর বিএফডিসিতে কর্মকর্তা কর্মচারি আছে ৭৬ জন। রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন করর্পোরেশনের অবতরণ কেন্দ্র আছে ৪টি। তার মধ্যে রাঙামাটিতে আছে বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা ১টি, রাঙামাটি সদর ১টি ও কাপ্তাই উপজেলায় ১টি। আর খাগড়াছড়ির মহলছড়িতে আছে ১টি। এছাড়া অভায়াশ্রম আছে ৭টি। রাঙামাটিতে মাছ আবতরণের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টার তুলনায় এখন ১২ ঘণ্টা মাছ অবতরণ করা হয় ফিসারি ঘাটে।
প্রসঙ্গত, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে ৭৩টি দেশিও প্রজাতির ও ৬টি বহিরাগত প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। যা প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
