মণিপুরে শান্তি ফেরাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ

দীপক দেবনাথ, কলকাতা
সহিংসতা কবলিত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য মণিপুরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক রয়েছে। সংঘর্ষে উভয় সম্প্রদায়ের সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে, যার ফলে দুর্ভাগ্যজনক প্রাণহানি এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি সহিংসতামূলক ও শান্তি বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো কার্যকরী তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-কে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এর পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখতে ও গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষে রাজ্যের জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সাথে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়।

গত সোমবার রাজ্যটির জিরিবাম জেলায় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’র (সিআরপিএফ) সাথে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১১ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়। বোরোবেক্রা পুলিশ থানা ও থানা সংলগ্ন সিআরপিএফ ক্যাম্পে কুকি জঙ্গিরা হামলা চালালে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। তাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, জঙ্গিদের আরেকটি দল নারী ও শিশুসহ ছয়জন মণিপুরীকে অপহরণ করে। ওই ঘটনার পাঁচদিন পর শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

রাজ্যটির উদ্ভূত পরিস্থিতির কথার বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই গত বৃহস্পতিবার সহিংসতা-বিধ্বস্ত জিরিবামসহ মণিপুরের ছয়টি থানা (সেকমাই, লামসং, লামলাই, জিরিবাম, লেইমাখং, মৈরাং) এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী পুনরায় প্রয়োগ করেছে কেন্দ্র সরকার।

সংরক্ষণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৩ মে থেকে অশান্তির শুরু হয় মণিপুরে। সেই থেকেই গত কয়েক মাসের বেশি সময় ধরে কুকি ও মেইতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটে আসছে রাজ্যটিতে। বিশেষ করে নারীদের উপর অত্যাচার, বিবস্ত্র করে ঘোরানো, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ, বোমা, গুলির ঘটনা ঘটছে। মণিপুরের সহিংসতায় এখনো পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর, আহত হয় প্রায় ৩ হাজার মানুষ। ভিটেহারা আরও প্রায় কয়েক হাজার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights