তোপের মুখে পালালেন শেরপুর জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক
শেরপুর প্রতিনিধি
ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পালিয়েছেন শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক। ইনসেটে ডা. সেলিম মিঞার ফাইল ছবি
ছাত্র-জনতার তোপের মুখে হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছেন শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিঞা।
নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আজ শনিবার সকালে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ করলে কার্যালয় ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি।
অভিযোগ, শেরপুরের আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আস্থাভাজন ছিলেন ডা. সেলিম মিঞা। ইতোপূর্বে নেত্রকোনা জেলায় সিভিল সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। করোনার সময় নেত্রকোনার সিভিল সার্জন থাকা ডাক্তার সেলিমকে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে পদঅবনতি দিয়ে শেরপুর জেলা হাসপাতালে পদায়ন করা হয়।
শেরপুরে যোগদান করে তৎকালিন সদরের এমপি ছানোয়ার হোসেন ও জেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রুমানের নির্দেশে বিভিন্ন দুর্নীতি শুরু করেন। স্বাচিপ নেতা ডা. সেলিম মিঞা নিজ জেলায় যোগদানের পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
সম্প্রতি টেন্ডারগুলোতে সর্বনিম্ন দরদাতাদের কাজ না দিয়ে ইচ্ছামতো ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেন তিনি। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরিক্ষার কোনো কীট নেই, ওষুধ সংকট, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ নেই। স্বেচ্ছাচারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই।
এ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। আজ দুপুরে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন সাধারণ মানুষ। অবস্থা বেগতিক দেখে সুকৌশলে ওই কর্মকর্তা সটকে পড়ে রক্ষা পেয়েছেন। পরে বিক্ষোব্ধরা মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেছেন।
ডা. সেলিম মিঞার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাড়ি চলে এসেছি, পালাইনি।’
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফীর সাথে টেলিফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি এবং এডিশনাল সেক্রেটারিকে বিষয়টি টেলিফোনে জানিয়েছি। স্বাস্থ্য বিভাগকে স্বচ্ছ এবং সেবামূলক রাখতে আমরা ফ্যাসিবাদী কাউকে দায়িত্বে রাখব না।’
