চাঁদা না দেয়ায় ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসা দখলে নেয়ার অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটায় দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় ডিশ ব্যবসা দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না বলে জানান ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

বিভিন্ন দফতরে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ডিমলা পদুমশহর (মধ্যপাড়া) এলাকার মজনু মিয়া উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়ন এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে তার টেনে গ্রাহকদের লাইন সরবরাহ করে দীর্ঘদিন থেকে পাভেল এন্টারপ্রাইজ নামীয় ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রায় ৫ বছর আগে মজনু মিয়া মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী শাবানা খাতুন স্বামীর নেটওয়ার্ক ব্যবসা নিজের নামে হালনাগাদ করে ছোট ভাই পাভেল মিয়ার সহযোগিতায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ক্যাবেল নেটওর্য়াক আইন অনুযায়ী প্রতি বৎসর ভ্যাট, ট্যাক্স ও সরকারি ফি জমা দিয়েও আসছিলেন তিনি।

এমন অবস্থায় সম্প্রতি শাবানা খাতুনের স্বামী না থাকার সুযোগে উপজেলার টেপা পদুমশহর এলাকার আঃ ওয়াহেদ সরকারের ছেলে এটিএম শাহরিয়ার (তাহের) একই এলাকার আক্তারুল ইসলামের ছেলে সায়েদ ইসলাম ও মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে ইমরান তার ব্যবসায়িক এলাকার বিভিন্ন (আবাসিক ক্যাবল নেটওয়ার্ক) ডিশ লাইনের প্রায় ১শ ৫০টি টিভির তার কেটে দিয়ে তারা জোরপূর্বক ও অবৈধ ক্ষমতা বলে তাদের দখলে নিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে পর্যায়ক্রমে সমস্ত তার কেটে দিয়ে তাদের দখলে নেয়ার হুমকি দেয়।

দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে ও ডিশ ক্যাবেল লাইন কাটার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তার পরিবারের সদস্যসহ তাকে বেদম মারপিট করে। এতে আহত হয়ে ভুক্তভোগী শাবানাসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় সাঘাটা থানা, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে তারা আর লাইন কাটবে না বলে ভুল স্বীকার করে থানায় মুচলিকা দেয়। কিন্তু কয়েকদিন পর আবারো লাইন দখলে নিয়ে তার কাছে পূর্বের ন্যায় অর্থ দাবি করে।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দফতরে আবারো অভিযোগ করলে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আবারো তার পরিবারের সদস্যদের মারপিট করে নতুন নতুন লাইন কেটে দেয়। শাবানা খাতুনের দেড় শতাধিক ক্যাবল দখলে নিয়ে নিজেদের নামে নতুন ক্যাবেল লাইসেন্স ব্যবসার অনুমোদনের আবেদন করে।
পরিবারের আয়ের একমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ক্ষতি ও দখলের ঘটনায় নিরুপায় হয়ে আবারো জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধা অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দফতরে অভিযোগ করে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বিধবা শাবানা খাতুন।

শাবানা খাতুন জানান, অভিযুক্তদের কারনে আমি এলাকায় স্বাধীনভাবে ডিশ ব্যবসা করিতে পারছি না। স্বামী না থাকায় সন্তানদের নিয়ে আমি এ ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। তারা প্রতিদিন আমার বিভিন্ন এলাকার লাইন কেটে দখলে নিচ্ছে। আমি এর বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসাহাক আলী বলেন, এ ঘটনায় একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। ক্যাবেল লাইন কেটে দেয়া ফৌজদারি অপরাধ। তদন্ত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights