বেপরোয়া মাদক কারবারিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নমনীয়তায় বরিশাল নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক কারবারিরা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। মাদকসেবীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদ করতে গিয়ে তারা শিকার হচ্ছেন হামলার। তাদের এ বেপরোয়া আচরণ থেকে রক্ষা পেতে নগরীতে মানববন্ধনও করছে নাগরিক সমাজ। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। প্রশাসন সক্রিয় হয়নি। নগরবাসী জানান, হাত বাড়ালেই নগরীতে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল। র্যাব ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় মাদক বিক্রেতা ও সেবীরা বেপরোয়া আচরণ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর কাউনিয়ার এক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন সকাল হলেই প্রকাশ্যে তারা মাদক বিক্রি করে। নিষেধ করার পর মাদক বিক্রেতা তাকে উল্টো হুমকি দিচ্ছে।
জানা গেছে, নগরীর উপকণ্ঠ চর আবদানী এলাকায় মাদক কেনাবেচা করায় বাধা দেওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে কাঠমিস্ত্রি আনিছুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। পলাশপুর এলাকায় মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে দ্বন্দ্বে রিকসাচালক মামুনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও কাশিপুর ফিশারি রোড এলাকায় মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাদক বিক্রেতার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে গত বৃহস্পতিবার নগরীর কাউনিয়া এলাকায় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ঘটনার সত্যতাও স্বীকার করেছে পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নগরীতে টহলসহ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে না। যার কারণে মাদক বিক্রেতা ও সেবীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে তারা দ্রুতই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলে দাবি করেছেন।
পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বরিশাল নগরীতে অন্তত ৫০টি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এ ছাড়া আড়াই থেকে তিন শ মাদক বিক্রেতা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি নগরীর পলাশপুর, কাউনিয়া, কেডিসি, চাঁদমারী বস্তি, বিসিক, কাশিপুর, গড়িয়ার পাড়, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, লামছরি, চরআবদানীসহ কয়েকটি এলাকায় মাদক কারবারিদের নিরাপদ ঘাঁটি। এসব এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদকের কেনাবেচা।
বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পরিদর্শক সগীর হোসেন বলেন, আমাদের অভিযান চলছে। কিন্তু ফোর্স সংকটের কারণে থানা থেকে আগের মতো অভিযান করা হচ্ছে না। তাই মাদকসেবী ও বিক্রেতারা একটু বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুতই এ অবস্থার পরিবর্তন হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন বলেন, আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। কোথাও খবর পেলে অভিযান করা হয়। কিন্তু মাদক না পাওয়ায় অভিযান নিষ্ফল হয়ে যাচ্ছে।
