শুধু মেয়ে নয়, দেশে নাবালক ছেলেদেরও বিয়ে দেয়া হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এক সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বৃহস্পতিবার( ১২ ডিসেম্বর) চিরিরবন্দর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হিউমেরাস স্টাডি সেন্টারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি পেতে প্রয়োজন একজন শিক্ষিত মা এর, বলেছিলেন প্রখ্যাত মনিষী ও দার্শনিক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। অথচ আজ এই একুশ শতকে এসেও দেশের মেয়েরা এখনো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। অপরদিকে আমাদের দেশে বাল্যবিয়ে বলতে শুধু মেয়েদের বয়স দেখা হয়। কিন্তু নাবালক ছেলেদেরও বিয়ে দেয়া হচ্ছে সেই দিকটা সমাজে অনেকটা উপেক্ষিত।
বক্তারা এসময় বলেন, সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে আইন অনুযায়ী আমাদের দেশে ১৮ বছরের মেয়ে এবং ২১ বছরের নীচে ছেলেদের নাবালক হিসেবে ধরা হয়। তাই ছেলে মেয়ে উভয়ের যেন নাবালক হিসেবে বিয়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এই সচেতনতামূলক সভায় উপজেলা সভাপতি মোস্তাকিম আল হাসনাতের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া সরকার, ও সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল রায়, হিউমেরাস স্টাডি সেন্টারের পরিচালক মো: ইয়াসিন বিন আবু তালেব ও আরিফুল হক।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে মা হতে গিয়ে প্রতি ২০ মিনিটে একজন মা ও প্রতি ঘণ্টায় একজন নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে। আবার যারা জন্মগ্রহণ করার পর বেঁচে থাকছে তাদের নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাল্য বিয়েই এ অবস্থার মূল কারণ। ছেলেশিশুদের বাল্যবিয়েও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশু অবস্থায় বিবাহিত একজন কিশোরকে অপরিণত বয়সেই প্রাপ্তবয়স্কের মতো দায়িত্ব নিতে বাধ্য হতে হয়, যার জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে না। বাল্যকালে বিবাহিত একজন কিশোর কখনোই সন্তানের কাছে আদর্শ বাবা হয়ে উঠতে পারে না। শিশুর বেড়ে উঠতে যে সাহায্য প্রয়োজন তা কিশোর বাবা পূরণ করতে পারে না কারণ তার নিজের বাল্যকালই সম্পূর্ণ নয়।
বক্তারা বলেন, যেখানেই বাল্যবিয়ে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে শপথ নেই নিজেরা বাল্য বিয়ে করবনা এবং নিজেদের এলাকায় বাল্য বিয়ে হতে দিবনা।
