আইস-ইয়াবার বাহন ট্রেন

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

মাদকের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে রেলের ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুট। আধুনিক স্ক্যানার ও তল্লাশি ব্যবস্থা না থাকায় এ রুটে ব্যাপকহারে পাচার হচ্ছে ইয়াবা ও আইস। ট্রেনের এ রুটে মাদক পাচার রোধের জন্য বিশেষ জোন ঘোষণার পাশাপাশি আধুনিক তল্লাশি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রস্তাবের প্রায় এক বছর পার হলেও এ বিষয়ে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার শেখ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ে পুলিশের মূল কাজ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি রেলে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা। বিভিন্ন অভিযানে মাদক উদ্ধারও করা হয়। তবে স্টেশনগুলোয় আধুনিক স্ক্যানার স্থাপন করলেও ভালো ফল পাওয়া যেত।’

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে আধুনিক সব সুযোগসুবিধা থাকলেও সনাতন পদ্ধতিতেই চলছে নিরাপত্তা তল্লাশি। স্টেশনের প্রবেশমুখে নেই আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্ক্যানার বা আর্চওয়ে। কক্সবাজার স্টেশন ও ট্রেনের দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন মাদক মাফিয়ারা। নতুন এ রুট ব্যবহার করে ইয়াবা ও আইসের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে খ্যাত কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা ও আইসের চালান।

জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম রুটের ১৬০ কিলোমিটারে দীর্ঘ সড়কপথে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কমপক্ষে ১০টি চেকপোস্ট রয়েছে। কিন্তু বিপরীত চিত্র কক্সবাজার আইকনিক রেল রুটের ক্ষেত্রে। এ স্টেশনে নেই কোনো স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা। যাত্রী ‘হয়রানি’ হওয়ার শঙ্কায় হয় না পর্যাপ্ত তল্লাশি। কক্সবাজার থেকে ঢাকা ফেরার পথে আটটি স্টেশনে থামলেও সময়স্বল্পতার কারণে স্টেশনগুলোয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা করতে পারেন না তল্লাশি। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে রেলের এ রুটে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন মাদক মাফিয়ারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights