দিনাজপুরবাসী দেখেছে এক অনন্য দৃশ্যপট

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ গত ২৯ অক্টোবর থেকে ২ জানুয়ারির মধ্যে দিনাজপুরবাসী দেখেছে অনন্য দৃশ্যপট। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাÑশিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন, পল্লী উন্নয়ন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন সফর করেছেন, যা স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহল ও আশার সঞ্চার করেছে।
২৮ অক্টোবর ২০২৪ হিলিতে এক আলোচনা সভায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আলেমদের ভূমিকার উপর জোর দিয়ে বলেন, যারা দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেন তারা দেশপ্রেমিক হতে পারেন না। পাশাপাশি, তিনি জানান, আসন্ন হজের খরচ কমানো হবে।
১৬ নভেম্বর ২০২৪ সেতাবগঞ্জ চিনিকল পরিদর্শন শেষে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং আখচাষিদের জন্য ১০০ কোটি টাকার নতুন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভূমি দস্য–দের দমন করে চিনিকলের জমি উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ কাহারোলে শীতবস্ত্র বিতরণকালে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, গণঅভ্যূত্থানের জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে সরকার সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ কার্যক্রমে যুক্ত হতে আহ¡ান জানান তিনি।
২ জানুয়ারি ২০২৫ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টিসিবি ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির কথা জানান। কৃষক ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় চালের দামের ভারসাম্য রক্ষার জটিল হিসাব মেলাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন।
দিনাজপুরবাসীর জন্য আরও চমকের ছিল দেশের দুই ব— রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের আগমন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দুবার দিনাজপুরে এসেছেন, এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একবার, এত অল্প সময়ের মধ্যে এমনটা দিনাজপুরের ইতিহাসে বিরল।
স্থানীয়রা বলছেন, এতদিন দিনাজপুরকে যেন কেন্দ্রীয়ভাবে বেশ উপেক্ষা করা হতো। উন্নয়ন প্রকল্প বা সুযোগÑসুবিধা বরাবরই সীমিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই তৎপরতা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা আশা করছেন, শিল্পায়ন, বাণিজ্য, এবং পল্লী উন্নয়নের মাধ্যমে দিনাজপুরের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর হবে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ শেখ হাসিনা সরকার আমলে গত ১৫ বছর ধরে সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুর অনেক অবহেলিত সময় পার করেছে, বিশেষ করে দিনাজপুরে প্রান কেন্দ্র শহরের প্রধান রাস্তাগুলি বেহাল দশায় পড়ে আছে, সবে মাত্র দিনাজপুরের বেশ কয়েকটি রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে, এই রকম দ্রুত গতির রাস্তা সংস্কার কাজ এর আগে দিনাজপুরবাসী দেখেনি, ওই যে একজন ছিলো দিনাজপুর সংসদ ৩ আসনের এমপি ইকবালুর রহিম, তিনি শুধু বলে বেড়াতেন শেখ হাসিনার আমলে দেশে উন্নয়ন আর উন্নয়ন, কিন্তু কথায় বললেও কাজে তেমন ছিলেন না। সেই সময় দিনাজপুরবাসী এই বিষয়গুলি নিয়ে মন্তব্য করলে তার উপর ভেঙ্গে পড়তো বিপদের পাহাড়, এই আওয়ামীলীগের এমপি ইকবালুর রহিমের পালিত গুন্ডা বাহীনী কর্তৃক নির্যাতন চালাতো তারা। ১৫ টি বছর ধরে উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তারা এতটাই লুটপাটে ব্যস্ত ছিলেন যে দিনাজপুরের মানুষের ভোগান্তি তাদের নজরেই ছিল না। তারা এখন নেই স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তারাও পালিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পর দিনাজপুরে বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাটের সংস্কার কাজ চলছে এখন আমাদের খুবই ভালো লাগছে।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলও এই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা করছেন। কেউ বলছেন, দিনাজপুর এখন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আবার কেউ মনে করছেন, এটি হয়তো আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ।
তবে সাধারণ মানুষের ভাবনা আরও সরল। তারা চান তাদের শহরটা একটু বদলাক। পাকা রাস্তা, কর্মসংস্থান, ভালো স্কুলÑকলেজ, এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হোক। স্থানীয় বাসিন্দা মহাম্মদ আলী বলেন, দিনাজপুরে এত ব— ব— মানুষ আসছেন, এটা ভালো দিক। যদি তারা কিছু উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন, তাহলে আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
দিনাজপুরের মানুষ এখন উন্নয়নের প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছে। সময়ই বলে দেবে, এই তৎপরতা শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি সত্যিকার পরিবর্তন বয়ে আনবে। তবুও, দিনাজপুরবাসী আশায় বুক বেঁধে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights