বিছানায় পড়ে ছিল স্ত্রী-শ্যালিকার নিথর দেহ, স্বামী লাপাত্তা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় স্ত্রী ও শ্যালিকাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আমীর হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান স্বামী আমির। শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে গতকাল রবিবার গভীর রাতে স্ত্রী যুথি আক্তার (২২) ও তার ছোট বোন স্মৃতি আক্তার (১২)কে ‘খুন’ করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন নিহতদের স্বজনেরা। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।
একই সাথে দুই বোন নিহতের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নিহত যুথি আক্তার ও স্মৃতি আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের মৃত রওশন আলীর মেয়ে। আর সামিউল ইসলাম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জামতলি গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে।
নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামিউল ইসলামের সাথে দেড় বছর আগে বিয়ে হয় যুথি আক্তারের। স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন যুথি আক্তার। যুথি আক্তারের বাবা রওশন আলী বেঁচে নেই। তাদের মা মামলার কারণে জেল হাজতে রয়েছেন। বাড়িতে থাকেন যুথি আক্তারের ছোট বোন স্মৃতি আক্তার ও ছোট ভাই জাহিদ হোসেন। বড় ভাই সৌদি আরবে থাকেন। যুথী এক মাস আগে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এর মাঝে সামিউল স্ত্রী যুথীকে ফিরে যেতে বলে। কিন্তু যুথী যেতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে গত সপ্তাহে সামিউল তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসে। রবিবার রাতে খাবার শেষে যুথি আক্তার ও তার ছোট বোন স্মৃতি আক্তার ঘরের একটি কক্ষে এবং আমির হোসেন ও তার শ্যালক জাহিদ হোসেন অন্য কক্ষে ঘুমিয়েছিল। রবিবার গভীর রাতে জাহিদ ঘুম থেকে জেগে তার দুলাভাইকে দেখতে পায়নি।
এ সময় ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায় সে। পাশের কক্ষে তার দুই বোনকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জাহিদ। এ সময় তার চিৎকার শুনে বাড়ির আশ-পাশের লোকজন এসে যুথি ও স্মৃতির মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে সোমবার সকালে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল কাদের, পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাশসহ কসবা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাাঁয় পুলিশ।
নিহতের ছোট ভাই জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দুলাভাই আমার সাথে ঘুমিয়েছিল। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি তিনি নেই। ঘরের দরজা খোলা রয়েছে। আমার দুই বোন মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আমি আমার বোনদের খুনের বিচার চাই।’
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, ‘তাদেরকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করা হয়েছে। কি কারণে খুন করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি ধারণা করছেন তাৎক্ষণিক হয়তো কোন দ্বন্ধের কারণে তাদেরকে খুন করা হয়েছে। নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালমর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।’
