কক্সবাজারে জলোচ্ছ্বাসে শতাধিক গ্রাম পানির নিচে, বজ্রপাতে নিহত ১

জলোচ্ছ্বাসে সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, পেকুয়ায় ঘরবাড়ি সাগরের পানিতে শতাধিক গ্রাম তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে বজ্রপাতে মহেশখালী চিংড়িঘেরে ইমন (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেদায়েত উল্লাহ জানান, জলোচ্ছ্বাসে সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার ছোটমহেশখালী, পৌরসভা, কুতুবজোম, ধলঘাটা ও মাতাবাড়িতে ৩০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে টানা ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়েছে। এতে করে গলাচিপা, কোনাপাড়া ও দক্ষিণপাড়া এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে এবং ঘাটে নোঙরকৃত পাঁচটি মাছ ধরার ট্রলার বিধ্বস্ত হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, হোটেল-মোটেলসহ বিএন স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গত চার দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে খাদ্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকেছে ও চারদিকে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার–মহেশখালী নৌ-রুট ও পেকুয়ার মগনামা-কুতুবদিয়া নৌ-রুটে যান চলাচল বন্ধ রাখে প্রশাসন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি গুরুতর হলে মানুষকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে খাদ্যবাহী ট্রলার পাঠানো হবে।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহার পাড়া, কাজীর পাড়া, তেলিপাড়া, হায়দার পাড়া, আনিচের ডেইল, জেলেপাড়া ও বায়ু বিদ্যুৎ সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়ে যাওয়ায় বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে সৈকতের ঝাউবাগান ও জিও ব্যাগের ওপর। ঢেউয়ের তোড়ে উপড়ে পড়েছে অনেক ঝাউগাছ।

কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুর ১২টা পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights