ক্রিকেট ইতিহাসে রেকর্ড রানের জয় পেল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

আয়ারল্যান্ডকে ১৮৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যা ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয় বাংলাদেশের।

শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানের বেশি করতে পারেনি সফরকারীরা। এতে তামিম ইকবালের দল জয় পেয়েছে ১৮৩ রানের। বাংলাদেশের জন্য এটাই রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়।

এর আগে ২০২০ সালে সিলেটেই জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।
৩৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই হয়েছিল আয়ারল্যান্ডের। স্টেফেন ডোহানি ও পল স্টার্লিং মিলে তাদের এনে দেন ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ বলে ৩৪ রান করা স্টেফেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য দেন সাকিব।

১ চার ও ছক্কায় ৩১ বলে ২২ রান করে স্টার্লিংও ফেরেন এবাদত হোসেনের বলে, উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। এরপরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আইরিশ ব্যাটিং লাইন আপ। ১৬ রানের ব্যবধানে তারা হারায় ৫ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের বোলিং সামলেই উঠতে পারেনি তারা।

মাঝে কার্টিস ক্যাম্পারকে নিয়ে কিছুক্ষণ চেষ্টা করেন জর্জ ডকরেল। তাদের দুজনের ২৯ রানের জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। এই স্পিনার এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন ১৭ বলে ১৬ রান করা ক্যাম্পারকে। এরপরের লড়াইটা একাই লড়েন জর্জ ডকরেল। তিনি আউট হন শেষ ব্যাটার হিসেবে।

এবাদত হোসেনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৬ চারে ৪৭ বলে ৪৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের বোলারদের ভেতর উইকেটশূন্য ছিলেন কেবল মুস্তাফিজুর রহমান। ৬ ওভারে ৩১ রান দেন তিনি। এছাড়া তাসকিন ছয় ওভারের দুটিই মেডেন দিয়ে ১৫ রান দেন, নেন দুই উইকেট। নাসুম ৮ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ৩, সাকিব ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ১ ও এবাদত হোসেন ৬ ওভার ৫ বল হাত ঘুরিয়ে ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট পেয়েছেন।

এর আগে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১৫ রানেই তামিমকে হারায় টাইগাররা। ৯ বলে ৩ রান করেন টাইগার অধিনায়ক।

তবে তামিম দ্রুত ফেরার পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন লিটন দাস। ধীরে ধীরে সেট হয়ে রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হয়েছিলেন ডানহাতি এই ওপেনার। কিন্তু আশা জাগিয়েও বেশিদূর যেতে পারলেন না তিনি।

দশম ওভারে আইরিশ পেসার কার্টিস ক্যাম্ফারের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। দলীয় ৪৯ রানে সাজঘরে ফেরার আগে ৩১ বল মোকাবিলায় ২৬ রান করেন তিনি।

তার আউটের কিছুক্ষণ পরই সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ৩৪ বলে ২৫ রান করেন। ৮১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সাকিব ও হৃদয়ের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে সেই চাপ থেকে মুক্তি মেলে টাইগারদের।

দুজনেই পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে খেলেছেন। তবে সাকিব ৯৩ রানে থামলেও ঝোড়ো ব্যাটিং করেন মুশফিক ও হৃদয়। মুশফিক ফিফটির আগেই থামেন। ২৬ বলে ৪৪ রান করে ৪৬তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি হৃদয়েরও। একই ওভারে ৯২ রানে আউট হন তিনি।

শেষদিকে ইয়াসির আলির ১০ বলে ১৭, তাসকিন আহমেদের ৭ বলে ১১ ও নাসুম আহমেদের ৭ বলে ১১ রানে ইনিংসে বাংলাদেশ পায় রেকর্ড গড়া সংগ্রহ। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে চার উইকেট নেন গ্রাহাম হিউম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights