ট্রান্সকম সিইও সিমিনসহ ৬ কর্মকর্তার জামিন বাতিল ও রিমান্ড প্রশ্নে শুনানি ১৬ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানসহ ছয় কর্মকর্তার জামিন বাতিল ও রিমান্ড চেয়ে করা আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত। আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শেষে এ বিষয়ে শুনানির জন্য ১৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জাকির হোসেন গালিব দিন ধার্যের এ আদেশ দেন। কোম্পানির শেয়ার জালিয়াতি ও ভুয়া পারিবারিক সেটেলমেন্ট দলিল তৈরির মামলায় আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে মামলরি বাদি ট্রান্সকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ্ হক পৃথক দুটি রিভিশন আবেদন দাখিল করেন। এই দুই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর গতকাল শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। এদিন সিমিন রহমানের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।

মামলার অন্য অসামিরা হলেন- ট্রান্সকম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স-আইন) ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, পরিচালক (কর্পোরেট ফাইন্যান্স) কামরুল হাসান, পরিচালক (কর্পোরেট ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ও ব্যবস্থাপক (কোম্পানি সেক্রেটারি) আবু ইউসূফ মো. সিদ্দিক।

আদেশের সিমিন রহমানের আইনজীবী সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৬ জানুয়ারি উভয়পক্ষের উপস্থিতে এই দুটি রিভিশন আবেদনের ওপর শুনানি করবেন আদালত।

শাযরেহ্ হকের আরেক আইনজীবী আমিনুল হক জানান, লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ্ হক ও ছেলে আরশাদ ওলিউর রহমানের ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে শেয়ার ট্রান্সফারের যে ভুয়া দলিল তৈরি করে আরজেএসসিতে দাখিল করার অভিযোগ সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে, সেসব দলিলের মূল কপি পাওয়া যাচ্ছে না। এই মামলার তদন্তের স্বার্থে মূল দলিল প্রয়োজন। এছাড়াও আসামিরা জামিনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদও করা যাচ্ছে না।

এজন্য গত ২৮ মে আসামদের জামিন বাতিল করে পৃথক দুই মামলার একটিতে ৭ দিন ও আরেকটিতে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার সিএমএম কোর্টের ২৭ নম্বর আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করা হয়। ২৯ মে সেই আবেদন দুটি খারিজ করেছেন আদালত। এই দুই আবেদনের বিরুদ্ধেই রিভিশন আবেদন দাখিল করেন শাযরেহ্ হক।

গত ফেব্রুয়ারিতে এই মামলাগুলো গুলশান থানায় দায়ের করে লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ্ হক। এরপর এই মামলার কয়েক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তারা জামিন পান। আর বিদেশ থাকা সিমিন রহমান দেশে এসে আসার পর আদালত আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights