“জুলাই বিপ্লব ও আমাদের প্রেরনা”
হাসিনা মরিয়ম
জুলাই বিপ্লব ২০২৪, যা বাংলাদেশে সংঘটিত একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, মূলত কোটা সংস্কার আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে ওঠা একটি ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ছিল। এই আন্দোলনে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্ররা সোচ্চার হয় এবং পরবর্তীতে এটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের জুন মাসে, অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় দিলে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই আন্দোলন প্রাণঘাতী রূপ নেয়। ২১ জুলাই সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে কোটা সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও আন্দোলনে প্রাণহানিকে “জুলাই গণহত্যা” আখ্যা দিয়ে নয় দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকে। আন্দোলনকারীরা “দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস গণনা করার” কথা জানান; এইভাবে তারা ১ আগস্ট থেকে ৩২ জুলাই হিসেবে গণ্য করতে থাকেন।আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৪ আগস্ট (৩৫ জুলাই) থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৫ আগস্ট (৩৬ জুলাই) “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। আন্দোলনের সফলতাকে আন্দোলনকারীরা “দ্বিতীয় স্বাধীনতা” এবং এই দিনটিকে “৩৬ জুলাই” হিসেবে অভিহিত করেন।
৩৬ জুলাই একটি প্রতীকী তারিখ, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্ট বোঝায়। মূলত, এটি একটি আন্দোলনের অংশ, যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৪ আগস্ট (যা ৩৫ জুলাই হিসেবেও পরিচিত) থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয় এবং ৫ আগস্ট (৩৬ জুলাই) ঢাকায় লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়,
জুলাই বিপ্লব ২০২৪ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনগণের ন্যায্য অধিকারের একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এ গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি কোনো স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারে না। এ বিপ্লবের মাধ্যমে জাতি দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক যুগের সূচনা হয়।
