আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৪০ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য চায় জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ভুক্তভোগীদের ১৪ কোটি ডলার দিয়ে সাহায্য করতে চায় সংস্থাটি। এক্ষেত্রে তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতি দাতাদের বৈরি মনোভাব দূরে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আফগানিস্তানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত। কয়েক বছরের মধ্যে যা আফগানিস্তানের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পে কমপক্ষে দুই হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন হাজার হাজর। কোনও কোনও এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ইন্দ্রিকা রাতওয়াত্তে বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেখানকার তাপমাত্রা তুলনামূলক শীতল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের আরও করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এসময় আন্তর্জাতিক মহলের উচিত আফগানিস্তানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা। যারা ইতোমধ্যে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে। আরও বলেছেন, এই মুহূর্তে মানুষের জীবন সংকটাপন্ন। দুই বা তিন সপ্তাহের মধ্যেই উঁচু এলাকাগুলোতে শীতের আবহ তৈরি হবে। জাতিসংঘ আফগানিস্তানের মানবিক পরিস্থিতিকে বিশ্বের অন্যতম সংকটাপন্ন হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দাতা দেশগুলোর সাহায্যের পরিমাণ গত বছর থেকে ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তহবিল হ্রাস পাওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে এর পেছনে কয়েকটি কারণ আছে বলে জানান রাতওয়াত্তে। নারীদের ক্ষেত্রে তালেবান সরকার যেসব নীতি গ্রহণ করেছেন সেগুলোর কারণে অনেক দাতা আফগানিস্তানকে সহায়তায় অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আরও বলেছেন, তালেবানের নীতির কারণে অনেক দেশ আফগানিস্তানকে সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আমাদের ভুক্তভোগী মানুষগুলোর কথা বিবেচনা করা উচিত। তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা উচিত।
রাতওয়াত্তে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পে বিপর্যস্তদের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও মানবিক সাহায্য প্রদান করেনি।
এদিকে তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতি নারী সাহায্যকর্মীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও তাদেরকে পুরুষ সঙ্গীর ছাড়া সফরের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
অন্যদিকে রাতওয়াত্তে বলেন, জাতিসংঘে নারী সাহায্য কর্মী অন্তুর্ভূক্তি এখনও একটি চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রচেষ্টা হলো, প্রতি টিমে কমপক্ষে একজন নারী কর্মী রাখা। যদিও সকল টিমের জন্য এটি এখনও সম্ভব না। তবে আমরা আমাদের লক্ষ্যে কাজ করছি। সূত্র: ইউএন নিউজ
