আমি বাংলার জন্য কাজ করি, কোনও নির্দিষ্ট দেশের জন্য নয়: জয়া

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো কার্নিভালের মঞ্চে উঠে এক আবেগঘন বক্তব্য দিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। বললেন, “আমি বাংলার জন্য কাজ করি, কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য নয়।” তবে বাংলাদেশি এই অভিনেত্রীর উপস্থিতি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে দুর্গাপুরে।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আয়োজনে দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয় জেলা পর্যায়ের দুর্গাপূজা কার্নিভাল। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ, বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, জেলাশাসক পোন্নাম্বালাম এস, পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী, অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে কার্নিভালে অংশ নেন জয়া আহসান। অন্য অতিথিদের সঙ্গে বেলুন ওড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন তিনি। পরে মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “আমরা পর্দায় কাজ করি। কিন্তু যাদের জন্য কাজ করি, যারা আমাদের ভালোবাসেন, তাদের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা পাই। আমি বাংলার জন্য কাজ করি, দেশের ভিত্তিতে নয়। পৃথিবীর যেখানেই বাংলা ভাষাভাষী মানুষ থাকুন না কেন, আমি তাদের জন্য কাজ করতে চাই, এই বাংলা সংস্কৃতির জন্য কাজ করতে চাই।”

নিজের ফোনে কার্নিভালের মুহূর্ত ধারণও করেন জয়া। বক্তব্য শেষে সঞ্চালকের অনুরোধে রবীন্দ্র সংগীত ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’ পরিবেশন করেন তিনি, সঙ্গে সঙ্গত দেন এক স্থানীয় শিল্পী।

জয়ার এই উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান শেষে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বিজেপি। তারা অভিযোগ তোলে, “একজন বাংলাদেশি নাগরিককে রাজ্য সরকারের আয়োজিত দুর্গাপুজো কার্নিভালের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। এটি বাংলার নিজস্ব শিল্পীদের প্রতি অপমান।”

বিক্ষোভকারীরা ‘বাংলার মঞ্চে বিদেশি কেন?’ প্ল্যাকার্ড হাতে জয়ার ছবিতে কালি লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান। দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিও তোলে তারা। মহকুমা শাসকের দফতর ও সরকারি বাসভবনের সামনে মানববন্ধন করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন দলের জেলা সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির এই প্রতিক্রিয়াকে ‘সঙ্কীর্ণ রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “শিল্পীর কোনো দেশ, ধর্ম বা জাত হয় না। দুর্গাপুরের মতো শহরে জয়া আহসানের মতো গুণী শিল্পীর আগমন সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক। বিজেপি বাংলার সংস্কৃতিকে রাজনীতির রঙে রাঙাতে চাইছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights