জবিতে সনাতনী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, মানববন্ধনের ঘোষণা আগামীকাল
রাকিব মাজহার,জবি প্রতিনিধি:
আসন্ন ২০ অক্টোবর ২০২৫ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রাঙ্গণে শ্যামা পূজার আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এর ফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
আজ ১৫ অক্টোবর (বুধবার) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল সনাতনী শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে পূজা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে তা নাকচ করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।
তিনি আবেদনটি গ্রহণ না করে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।”
এরপর শিক্ষার্থীরা ছাত্রদল আহ্বায়ক হিমেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, পিএইচডি-এর সঙ্গে দেখা করেন।
তবে উপাচার্যও একই যুক্তি দেখিয়ে পূজা আয়োজনের অনুমতি দেননি।
তিনি বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণে এ মুহূর্তে ক্যাম্পাসে এমন আয়োজনের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না।”
এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অধর্মনিরপেক্ষ ও মুক্ত চিন্তার প্রতিষ্ঠান, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদায় নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের অধিকার রাখেন।
তারা বলেন, “ক্যাম্পাসে দুর্গাপূজা, ঈদ, বড়দিনের মতো উৎসব পালিত হলেও শ্যামা পূজায় অনুমতি না দেওয়া প্রশাসনের দ্বৈতনীতি ও বৈষম্যের উদাহরণ।”
সনাতনী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন—
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিবছরের মতো এবারও শ্যামা পূজা আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
তাঁরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও পূজার অনুমতি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আগামীকাল (১৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সনাতনী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যদি প্রশাসন অনুমতি না দেয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
