আধা কিলোমিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে স্কুলে যায় আল আমিন
সাইফুল মিলন, গাইবান্ধা
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন—হাঁটতে পারে না, দুই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানোও কঠিন। এক হাতেও পূর্ণ শক্তি নেই। হাঁটু গেড়ে হামাগুড়ি দিয়েই চলতে হয় তাকে। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি তার শেখার আগ্রহকে। প্রতিদিন প্রায় আধা কিলোমিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে স্কুলে যায় ১০ বছরের এই শিশু।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দেওডোবা এলাকার দিনমজুর মফিজুল হোসেন ও গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের একমাত্র সন্তান আল আমিন। জন্ম থেকেই ঠোঁট কাটা ও তালুবিহীন ছিল সে। চিকিৎসায় ঠোঁট জোড়া লাগানো হলেও চলাফেরার সমস্যাটা থেকে গেছে। অভাবের সংসার, কিন্তু আল আমিনের পড়াশোনার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি দারিদ্র্যও।
স্থানীয় দেওডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আল আমিন। বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের স্কুলে প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে যায়। কখনো হাঁটুর চামড়া উঠে রক্ত বের হয়, তবুও স্কুলে যেতে সে থামে না। সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে ইচ্ছে করে, দৌড়াতে ইচ্ছে করে—কিন্তু সবাই তার সঙ্গে খেলতে চায় না। তাই একাই হামাগুড়ি দিয়ে স্কুলে যায় সে।
অভিভাবক মফিজুল হোসেন বলেন, ‘ছেলেটার খুব ইচ্ছে পড়াশোনা করার। প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে দেখে বুক ফেটে যায়।’ মা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘একটি ছেলে আমার। জন্ম থেকে সে প্রতিবন্ধী। তাকে গোসল করানো থেকে শুরু করে সব কাজে সাহায্য করতে হয়। তবু তার পড়ার ইচ্ছে দেখে সব সহ্য করি। কেউ সহযোগিতা করলে ভালো হতো।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান বলেন, ‘আল আমিন খুব মনোযোগী ছাত্র। নিয়মিত আসে। যত্ন পেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান খান বলেন, ‘আল আমিন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। তার জন্য প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তার সহজ চলাচলের জন্য হুইলচেয়ার দেওয়ার বিষয়টিও আমরা দেখছি।’
