কেরানীগঞ্জের আড়তে কেমিক্যালে পাকানো হচ্ছে কাঁচা ফল
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ফল ও সবজির আড়তে প্রকাশ্যেই অপরিপক্ক কাঁচা ফল কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো হচ্ছে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও অতিমাত্রায় ইথোফেন ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যেই কাঁচা ফলকে পাকা রঙে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই অবস্থিত রাজেন্দ্রপুর ফল ও সবজির আড়তে এই কার্যক্রম চলছে। আড়তের প্রথমে পানির সঙ্গে ইথোফেন মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করা হয়। এরপর সেই দ্রবণে অপরিপক্ক ফল ভিজিয়ে রেখে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে ১২ ঘন্টার মধ্যেই ফলগুলো দেখতে হলুদ ও পরিপক্ক হয়ে ওঠে।
জানা যায়, কেরানীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ খুচরা ফল বিক্রেতা এই আড়ত থেকেই ফল সংগ্রহ করেন। ফলে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো এসব ফল দ্রুতই বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। চাহিদা বেশি থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই অপরিপক্ক ফলে কেমিক্যাল ব্যবহার করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আড়তের এক-দুটি দোকান নয়; বরং সব ব্যবসায়ীই একই পদ্ধতিতে ফল পাকাচ্ছেন। এতে ভোক্তারা না জেনেই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ফল কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমদাদুল হোসেন বলেন, ‘ফল আড়তদাররা রাসায়নিক ব্যবহার করে কাঁচা কলা ও অপরিপক্ক ফলকে অল্প সময়ে পাকিয়ে বিক্রয় উপযোগী করে তোলেন। রাসায়নিক ব্যবহৃত এসব কলা আমরা কিনে বাড়ি নিয়ে আমাদের পরিবারের সদস্যরা খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সাদ্দাম হোসেন সৈকত বলেন, ‘অতিমাত্রায় কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো ফল নিয়মিত খেলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। কার্বাইড মানব দেহের জন্য একটি ক্ষতিকর পদার্থ। কার্বাইডযুক্ত কলা বা অন্য কোনো ফল খেলে দীর্ঘ মেয়াদী নানা রকম রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে বদহজম, পেটের পীড়া, পাতলা পায়খানা, জন্ডিস, গ্যাস্ট্রিক, শ্বাসকষ্ট এবং লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়াসহ ক্যান্সারের মতো জটিল রোগেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে।’
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক বলেন, ‘ফল পাকাতে কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
