বিক্রি ও বুকিং ৩০১ কোটি টাকার

অনলাইন ডেস্ক

আলী আহসান। পেশায় ব্যবসায়ী। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করে জমিয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু এই টাকায় মিলছে না কোনো ভালো ফ্ল্যাট। স্বপ্ন পূরণ করতে তাই চলে আসেন শেষ ভরসা আবাসনের সবচেয়ে বড় মেলা, রিহ্যাব ফেয়ারে।

গতকাল শনিবার রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫-এর শেষ দিন বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে নিজের কথাগুলো বলছিলেন আহসান।

তিনি বলেন, ‘অনেক বছরের স্বপ্ন পরিবার নিয়ে নিজের বাসায় থাকব। টাকাও কিছু জমিয়েছি। কিন্তু এই টাকায় ফ্ল্যাট পাওয়া কঠিন। তাই মেলায় এসে কয়েকটি আবাসন কম্পানির সঙ্গে কথা বললাম। কয়েকটা ব্যাংকের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। আশা করছি, এবার স্বপ্নপূরণ হবে।’

দেশের আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫-এর শেষ দিন ছিল গতকাল। এদিন বাড়ি কেনায় আগ্রহীদের পদচারণে মুখর ছিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র।

হাজার কোটি টাকার ফ্ল্যাট, প্লট বিক্রি ও ব্যাংক কমিটমেন্ট

রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় মোট ৩০১ কোটি ৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকার ফ্ল্যাট, প্লট ও বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি ও বুকিং হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট, ৭৪ কোটি টাকার প্লট এবং ৫৮ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার টাকার বাণিজ্যিক স্পেস অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া মেলায় অংশ নেওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৭৭৮ কোটি টাকার ব্যাংক কমিটমেন্ট এসেছে। এটা আবাসন খাতের প্রতি ক্রেতাদের আস্থারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মধ্যবিত্ত ও প্রথমবারের ক্রেতাদের আগ্রহ

এবার রাজধানী ও আশপাশের এলাকার পাশাপাশি বিভাগীয় শহর এবং নতুন উন্নয়ন এলাকাভিত্তিক প্রকল্পের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনায় আগ্রহীদের জন্য সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট, দীর্ঘ কিস্তি সুবিধা ও বুকিং মানি ছাড় মেলায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। প্লট প্রকল্প, রেডি ফ্ল্যাট এবং নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট—সব ক্ষেত্রেই তথ্য জানার জন্য ভিড় দেখা গেছে।

অনেক ক্রেতা পরিবার নিয়ে এসে একাধিক স্টল ঘুরে দেখেন। লোকেশন, মূল্য, হস্তান্তরের সময়, পার্কিং সুবিধা এবং ব্যাংকঋণের শর্ত সবকিছুই তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। আজাদুর রহমান নামে লালবাগের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘মেলায় আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্ল্যাট-প্লটের দামের বিষয়ে ধারণা নেওয়া। এখানে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে, তাই আসা।’

আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, শেষ দিনে এসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, কারণ মেলার বিশেষ ছাড় ও এক্সক্লুসিভ অফার এই সময়েই কাজে লাগাতে চান ক্রেতারা।

সুবর্ণভূমি হাউজিং লিমিটেডের ম্যানেজার (অ্যাকাউন্টস) গোলাম মাওলা বলেন, ‘মেলায় যারা আসেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই তথ্য জেনে যান। এঁদের মধ্যে অনেকে পরে যোগাযোগ করে থাকেন। আমরা মধ্যবিত্তদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে থাকি। এবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকার একটি প্রকল্প এনেছি, যেখানে তিন, চার ও পাঁচ কাঠার প্লট কাঠাপ্রতি ১০ লাখ টাকায় দিচ্ছি।’

মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ফ্ল্যাটের নির্মাণমান, হ্যান্ডওভার সময়, কমিউনিটি সুবিধা, পার্কিং এবং ভবিষ্যৎ রিসেল ভ্যালু—এসব বিষয়ে এবার আগ্রহী ছিলেন ক্রেতারা। এতে স্পষ্ট, আবাসন বাজারে সচেতন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে।

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও মেলা সফল হয়েছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার স্টলগুলো প্রাণবন্ত ছিল। আমরা আবাসন খাতকে টিকিয়ে রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আবাসন খাত পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মেলা শেষ হলেও ক্রেতাদের জন্য সুযোগ এখানেই থেমে যাচ্ছে না। মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েক দিন নিজ নিজ অফিসে মেলার অফার ও ছাড় অব্যাহত রাখবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights