নড়াইল জেলা পরিষদ মাঠে নেমেছে বেদখলকৃত জমি উদ্ধারে

নড়াইল প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন যাবত নড়াইল জেলা পরিষদের বেদখলে থাকা কোটি কোটি টাকার মূল্যে জমি নিজ দখলে নিতে মাঠে নেমেছে কর্তৃপক্ষ।
দুপুর ১২ টার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীসহ একটি প্রতিনিধি দল নড়াইলের পুরাতন বাসটার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করেন। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ দেশের একটি প্রাচীনতম সরকারি প্রতিষ্ঠান।এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এবং দুস্থ ব্যক্তিদের অনুদান প্রদান করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে জমি, পুকুরসহ বিপুল পরিমান সম্পত্তি। তবে নানা জটিলতায় এই সকল জমি বড় একটা অংশই বেদখল, অব্যবহৃত ও পতিত রয়েছে। ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংস্থা এই সকল জমি দখলে নিচ্ছে। তবে বর্তমানে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ এ সকল জমি পুনরায় নিজের দখলে নেয়ার উদ্দোগ গ্রহন করেছেন। বিভিন্ন অব্যবহৃত পতিত জমি অস্থায়ীভাবে এক বছরের জন্য লীজের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর কাজ করছেন। এর ফলে একই সাথে পতিত এ সকল স্থান যেমন জেলা পরিষদের দখল নিশ্চিত হবে ঠিক তেমনি এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির সুযোগ হচ্ছে। এছাড়া নড়াইল শহরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি নতুন মার্কেট নির্মানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। বুধবার নড়াইল শহরের দূর্গাপুর এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, নড়াইল মাগুরা সড়কের দুই পাশের জেলা পরিষদের বেশ কিছু জায়গাই ব্যক্তি দখলে চলে গেছে। বেশ কিছু জায়গা পতিত পড়ে আছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ সকল জায়গা নিজের দখল নিশ্চিত করে এক সনা ভিত্তিতে লীজ প্রদান করছেন। যার ফলে এলাকায় নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। জেলা পরিষদের এই কর্মকান্ডে দখলদাররা নাখোশ হলেও খুশি এলাকার সাধারন মানুষ। নড়াইলের দূর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম ,আবু সাদ্দাত বলেন, দীর্ঘদিন যাবত নড়াইলের ভুমি অফিসের সামনে পতিত জায়গা জেলা পরিষদ নিজের দখলে নিয়ে লীজ দিয়েছেন। এর ফলে ওই জায়গায় জেলা পরিষদের যেমন দখল নিশ্চিত হয়েছে তেমনি এলাকায় কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশের যে পতিত জায়গা আছে তাও লীজ দেওয়া উচিত। নড়াইল বাস টার্মিনাল এলাকার ব্যবসায়ী রমেশ দাস বলেন, আমরা সুন্দর পরিবেশে ব্যবসা করতে চাই। এখানে সুন্দর মার্কেট করা উচিত। নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক পাঠক প্রবাহ এর নির্বাহী সম্পাদক মোঃ নুরুন্নবী বলেন, জেলা পরিষদ তার নিজস্ব জমি উদ্ধারের যে কাজ শুরু করেছেন তা সাধুবাদ যোগ্য। একই সাথে জেলা পরিষদ এর অব্যবহৃত জমিতে অস্থায়ীভাবে লীজ এর মাধ্যমে ব্যবসা বানিজ্যের যে সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে তার জন্য জেলা পরিষদের বর্তমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নড়াইল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা পরিষদ এলাকা বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দুস্থ ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন থাকে। দীর্ঘদিন যাবত নড়াইল জেলা পরিষদের বেশ কিছু জায়গা বেদখল ও পতিত পড়ে আছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক মহোদয়সহ মিটিং সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সকল জমি আমাদের নিয়ন্ত্রনে আনার কাজ করছি। যে সকল জমি একই প্রয়োজন নেই, সেখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে লীজ প্রদানের কাজ চলছে। এর ফলে যেমন জেলা পরিষদের আয় বৃদ্ধি পাবে ঠিক তেমনিই এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
নড়াইল ১১.০১.২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights