‘বিক্ষোভ করতে থাকো, সহায়তা পথেই,’ ইরানিদের উসকানি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হঠাৎ করেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে উসকানি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভ করতে থাকো, সহায়তা পথেই রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত পদক্ষেপ’ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। তবে, সেই ব্যবস্থাগুলো প্রকৃত পক্ষে কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। যদিও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তাকে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত’ বলে বর্ণনা করেছে।

এদিকে, ইরানে সামরিক হামলা চালানো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত রাখতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে কয়েকটি আরব দেশ। এ উদ্যোগে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাতার ও ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যেকোনও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত সৌদি আরবের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে-এ শঙ্কা থেকেই রিয়াদ এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনও হামলা হলে তা সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বিগ্ন দেশটি।

উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর পক্ষ থেকে এমন বড় ধরনের বাধার পেছনে আরেকটি উদ্বেগ হলো গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে সচল রাখা। ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ইরানে হামলা হলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তার উপসাগরীয় মিত্রদের ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে। এই সতর্কবার্তাই উপসাগরীয় রাজধানীগুলোতে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশগুলো আশঙ্কা করছে-এ ধরনের সংঘাত জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর স্থিতিশীলতা এবং নিজ নিজ ভূখণ্ডে এর প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান স্পষ্টভাবে হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে- ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা উচ্ছেদের কোনও চেষ্টা হলে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়বে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, সিবিএস নিউজ, রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights