বইয়ের অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে প্রতিভার বিকাশে জোর দিতে হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা কেবল একাডেমিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা, বিতর্ক, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও নেতৃত্বের মধ্য দিয়েও প্রকৃত মেধার বিকাশ ঘটে। তাই শিক্ষার লক্ষ্য শুধু বই আর পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক গুণাবলি বিকাশের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা সাধারণত শিক্ষা বলতে বই, স্কুল ও কলেজকেই বুঝি। কিন্তু শিক্ষা তার চেয়ে অনেক বিস্তৃত বিষয়। মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা, গুণ ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করাই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। শিক্ষাজীবন যেন বাস্তবধর্মী, জীবনঘনিষ্ঠ ও আনন্দময় হয়—সে পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় বই ও পরীক্ষানির্ভরতার সমালোচনা করে অধ্যাপক আবরার বলেন, শিক্ষার্থী—বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের ওপর অতিরিক্ত বইয়ের চাপ দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের অন্যান্য প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চল থেকেও প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা উঠে আসছে। এতে প্রমাণ হয়, মেধা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্ন হলো, জাতি হিসেবে আমরা সেই মেধাকে কতটা লালন ও বিকাশের সুযোগ দিতে পারছি।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, মোট পুরস্কারপ্রাপ্তদের ৫৭ শতাংশ নারী এবং ৪৩ শতাংশ পুরুষ। বাংলা ও ইংরেজি রচনা এবং ইংরেজি বক্তব্য বিভাগে নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই নারীরা সব স্তরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে—এমন সমাজ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা আক্ষেপ করবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। শুধু কয়েকটি নয়, প্রতিটি স্কুলকেই ভালো স্কুলে পরিণত করতে হবে, যাতে সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights