নেপালে নির্বাচনী ঝড়, ওলির শক্ত ঘাঁটিতেই লড়বেন র‍্যাপার বালেন!

অনলাইন ডেস্ক

নেপালের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। আগামী ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হিমালয় কন্যা। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছেন কাঠমান্ডুর সদ্য পদত্যাগী মেয়র তথা জনপ্রিয় র‍্যাপার বালেন শাহ। গত সেপ্টেম্বরের গণবিক্ষোভের পর এটিই প্রথম নির্বাচন, যেখানে সরাসরি লড়াইয়ে নামছেন ৩৫ বছর বয়সী এই তরুণ তুর্কি এবং নেপালের ঝানু রাজনীতিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি।

পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বালেন শাহ গত সপ্তাহে কাঠমান্ডুর মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচনে লড়বেন। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা করেন, তিনি কোনো নিরাপদ আসন থেকে নয় বরং সরাসরি কেপি শর্মা ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ওলি নেপালের রাজনীতিতে চারবারের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রভাবশালী মার্ক্সবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে এই সরাসরি চ্যালেঞ্জকে বিশ্লেষকরা নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধে এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় বালেন শাহ স্পষ্ট করেছেন, তিনি কোনো সহজ পথ খুঁজছেন না। তার মতে, বড় নেতাদের মুখোমুখি হওয়া মানেই হলো দেশের বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর সদিচ্ছা প্রকাশ করা। ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর প্রথম স্বতন্ত্র মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন, কর ফাঁকি রোধ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার কারণে তার কঠোর ভূমিকা নেপালের তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে একজন আইকনে পরিণত করেছে। যদিও তার উচ্ছেদ অভিযান ও সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।

এবারের নির্বাচনে বালেন শাহ যুক্ত হয়েছেন রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সাথে। এই জোট যদি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে বালেন শাহই হতে পারেন নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নেপালের রাজনীতিতে এই নাটকীয় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত সেপ্টেম্বর মাসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া ‘জেন জি’র বিক্ষোভ দ্রুতই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হন কেপি শর্মা ওলি। সেই বিক্ষোভের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন বালেন শাহ। বর্তমানে তার দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ওই আন্দোলনের অনেক নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন। অর্থনৈতিক স্থবিরতা আর দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে দেশকে মুক্ত করে দক্ষ জনশক্তির বিদেশে পাড়ি জমানো ঠেকাতে পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে চান এই র‍্যাপার মেয়র। সংগীতকে নিজের অস্তিত্বের অংশ মনে করা বালেন শাহ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হলেও তার র‍্যাপ সংগীত থেমে থাকবে না।

সূত্র: টিআরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights