মাসে শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান, ইসরায়েলের ঘুম হারাম!

অনলাইন ডেস্ক

প্রতি মাসে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান। আর এমন খবরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা। অনেকেরই ঘুম হারাম হওয়ার দশা।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল সিটিগুলোতে বর্তমানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে সংঘটিত যুদ্ধের সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা ইরানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লঞ্চার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশঙ্কা করছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিকল্প হিসেবে এখন প্রতি মাসে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে নিজেদের ভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করছে।

ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মূল কারিগর ছিলেন আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ। তিনি গত যুদ্ধের শুরুতেই নিহত হন। তবে তার রেখে যাওয়া লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইরান এখন আরও মরিয়া। বিশেষ করে তরল ও কঠিন জ্বালানি চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মহাকাশ দিয়ে নির্দিষ্ট পথ পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানের এই সমরাস্ত্র কেবল ইসরায়েল নয় বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্যও এক বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সংবাদটির তথ্যমতে ইরান বর্তমানে সেজিল, ইমাদ এবং খোররামশাহরের মতো দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এগুলো প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এতে ১৮০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের বিস্ফোরক বহন করা যায়।

যদিও গত যুদ্ধে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ৮৬ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে পেরেছিল কিন্তু বাকিগুলোর আঘাতে দেশটিতে অন্তত ২৯ জন প্রাণ হারান এবং বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষক রন বেন-ইশাইয়ের মতে ইরানের এই বিশাল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সংখ্যার জোরে পরাস্ত করা।

ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে টিকে থাকার একমাত্র রক্ষাকবচ মনে করে ইরান। ফলে তারা আমেরিকার সাথে কোনো ধরনের আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে না। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি একটি ‘রেড লাইন’ এবং এ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।

আইআরজিসি কর্মকর্তাদের দাবি এই ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আক্রমণ না করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি চাইছেন ইরানকে যাতে কোনো ছাড় না দেওয়া হয়। নেতানিয়াহুর মূল দাবি হলো, ইরান বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং এখনই সময় তাদের এই বিধ্বংসী কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার। ইসরায়েল মনে করে কেবল পারমাণবিক সমঝোতা দিয়ে ইরানকে থামানো সম্ভব নয় বরং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও কেড়ে নিতে হবে।

এদিকে ইরান কেবল ইসরায়েল নয় বরং কাতার, ইরাক এবং পাকিস্তানের মতো বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশেও অতীতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তাদের শক্তির মহড়া দিয়েছে। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগারে হামলা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে কুর্দিস্তানে তথাকথিত মোসাদ সদর দপ্তরে হামলা পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পদচিহ্ন সর্বত্র দৃশ্যমান। তেহরান হুমকি দিয়েছে যে ভবিষ্যতে তারা কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই হামলা চালাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights