ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে কাজে লাগাতে চান রাজা

অনলাইন ডেস্ক
সব সংস্করণ মিলিয়েই ১০ বছর পর ভারতে খেলতে নামল জিম্বাবুয়ে। সেই ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর প্রথমবার। গোটা দলের দুইজন ছাড়া কারও নেই ভারতের মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই অনভ্যস্ততার আড়ালে স্বস্তি খুঁজতে চান না সিকান্দার রাজা। বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বড় পরাজয়ের শিক্ষাগুলোকে সঙ্গী করে সামনে এগিয়ে যেতে চান জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চমকপ্রদ পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অপরাজিত থাকা জিম্বাবুয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে। মুম্বাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে গেছে তারা ১০৭ রানে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সোমবার জিম্বাবুয়ের বোলিং গুঁড়িয়ে ২০ ওভারে ২৫৪ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। রান তাড়ায় ১০৩ রানে নবম উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত ১৪৭ পর্যন্ত যেতে পারে শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্সের ২১ বলে ৪৩ রানের ঝড়ে।

জিম্বাবুয়ের জন্য এই ম্যাচে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল কন্ডিশন আর উইকেটের পরিবর্তন। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি খেলেছে তারা শ্রীলঙ্কায়। সেখানে উইকেটের ধরন অনেকটাই আলাদা ছিল মুম্বাইয়ের চেয়ে। এছাড়াও শ্রীলঙ্কার ভেন্যুগুলোর সীমানার আকার বড়, ওয়াংখেড়েতে যা তুলনামূলক ছোট। ক্যারিবিয়ানরা আগের ম্যাচগুলি খেলেছে ভারতেই। এই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই তাদের তৃতীয় ম্যাচ ছিল এটি। এই জায়গায় ব্যবধান তাই স্পষ্টই ছিল।

মাঠের ক্রিকেটেও ব্যবধান ফুটে উঠেছে বড় আকারে। ম্যাচের পর সিকান্দার রাজার কাছে জানতে চাওয়া হলো, নতুন দেশ আর নতুন ভেন্যুতে মানিয়ে নেওয়া কতটা কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি এটিকে বড় করে দেখতে চাইলেন না।

রাজা বলেন, এরকম ভাবতে চাই না আমরা (নতুন ভেন্যুতে সমস্যা)। যদি আমরা ভেন্যু নিয়ে ভাবি, যদি দেশ পরিবর্তন নিয়ে ভাবি, তাহলে এই ম্যাচ থেকে আমরা কিছুই শিখব না। আমার এবং জিম্বাবুয়ের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা এই পরিস্থিতি থেকে যেন কিছু পেতে পারি… অজুহাত দেওয়াটা আমাদেরকে সাহায্য করবে না। যদি আমরা এগিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ভালো হয়ে থাকি, তাহলে অবশ্যই যেখানেই খেলি, সেখানেই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, সেটা এখানে হোক বা শ্রীলঙ্কায়। তাই ভেন্যু পরিবর্তন আমাকে ভাবাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা আজ থেকে কিছু মূল্যবান শিক্ষা নিয়েছি।

রাজার আশা, এই ম্যাচের শিক্ষাগুলো সামনের পথচলায় সহায়তা করবে তাদেরকে। তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ছিল, ম্যাচজুড়েই পিচ একইরকম নিষ্প্রাণ থাকবে। দুর্ভাগ্যবশত, বল ঘুরতে শুরু করে (দ্বিতীয় ইনিংসে) এবং সেখানেই আমরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। অভিজ্ঞতার দিক থেকে ভাবলে, দারুণ ম্যাচ ছিল আমাদের জন্য। ছেলেরা অনেক শিখতে পারবে, তুলনামূলক মন্থর উইকেটে কীভাবে বল করতে হয়, যে ব্যাটাররা অনেক জোরে ও অনেক দূরে বল হিট করতে পারে, তাদের সামনে কীভাবে বল করতে হয়। আবার যদি আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিরুদ্ধে ছোট কোনো মাঠে খেলতে নামি, তাহলে আজকের শিক্ষা অবশ্যই আমাদের কাজে লাগবে।

পরের ম্যাচে রাজাদের অপেক্ষায় আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। চেন্নাইয়ে খেলবেন তারা ভারতের বিপক্ষে, সুপার এইটের প্রথম ম্যাচটি হেরে যারা তেতে আছে প্রবলভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights