কাটছেই না গ্রহণের কাল

মোস্তফা মতিহার

গ্রহণের কাল যেন কোনো কিছুতেই কাটছে না। নিস্তব্ধতা চেপে ধরেছে অমর একুশে বইমেলায়। রমজানে মেলা আয়োজনে প্রকাশকদের সিংহভাগ শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। বিনা ভাড়ায় স্টল বরাদ্দে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর অবশেষে এটিকে নিয়ম রক্ষার মেলা ভেবে নিয়েই অংশ নিয়েছেন সব প্রকাশক। শুরুর পর টানা তিন দিন দর্শনার্থীর আগমন ও বিকিকিনিতে প্রকাশকরা যখন আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তখন চতুর্থ দিন থেকে তাঁদের সেই আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে। আর গতকাল মেলার পঞ্চম দিনের চিত্র প্রকাশকদের বুকের পাঁজর ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এদিন বেলা ২টায় মেলার প্রবেশদ্বার উন্মোচনের পর ইফতারের আগ পর্যন্ত সুনসান নীরবতা ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলাজুড়ে। এ সময়টাতে বিক্রয়কর্মীরা ছাড়া দর্শনার্থীর উপস্থিতি খুব একটা লক্ষ করা যায়নি। সুনসান নীরবতার এ মেলায় বেশির ভাগ প্রকাশকই আসেননি। জোনাকী প্রকাশনীর স্টলে কথা হয় বিক্রয়কর্মী সোহান ও সাঈদুন্নবীর সঙ্গে। জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘দুপুরের পর ইফতারের আগ পর্যন্ত পাঁচটি বই বিক্রি করেছি।’ মন খারাপ বলে প্রকাশক মঞ্জুর হোসেন এ দিনের মেলায় আসেননি। একই চিত্র দেখা গেল পুথিপ্রকাশের স্টলে। বিক্রয়কর্মী লামিয়া ও রোকন বিশ্বাস ছাড়া এ স্টলটিতেও আসেননি প্রকাশক সুজন বিশ্বাস।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে গতকাল পঞ্চম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৪০টি। আর গত পাঁচ দিনে নতুন বই এসেছে ১৩৬টি।

মূল মঞ্চ : বেলা ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘সার্ধশত জন্মবর্ষ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন পারভেজ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সফিকুন্নবী সামাদী। প্রবন্ধে হামীম কামরুল হক বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের এক কীর্তিস্তম্ভের নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর উপন্যাসগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নারীজীবনের মুক্তি ও বৃহত্তর সমাজের কল্যাণসাধন। পাঠকের চাহিদা পূরণ করে তিনি একের পর এক উপন্যাস লিখে গেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights