বগুড়ায় খাঁখাঁ যমুনার বুকে ঘোড়ার গাড়ি

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

শুষ্ক মৌসুমের শুরু। তার মধ্যেই বগুড়ার সারিয়াকান্দি যমুনা নদীতে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। নদীন বড় অংশ জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। এতে করে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার নৌরুটগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরবাসীর জীবনযাত্রা এবং কৃষি পণ্য পরিবহনে কষ্ট হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পানি রয়েছে। নাব্য সংকটের কারণে এখন দুর্গম চরাঞ্চলে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি।

চরাঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে বাদাম, ভুট্টা, মসুর ডাল, বোরো ধান ও মিষ্টি আলু চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু রাস্তাঘাট না থাকায় এসব ফসল বাজারে তুলতে একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। অতিরিক্ত ভাড়ায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের পরিবহনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চান চরবাসী। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। নৌবন্দর হলে সারাবছর নৌপথ ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকবে। এর মাধ্যমে কৃত্রিম নৌপথ সৃষ্টি করলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাস থেকে বগুড়া সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে নাব্য সংকট বিরাজমান রয়েছে। এ সংকট দিনদিন চরম আকার ধারণ করছে। ফলে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণসহ আটটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় ধু-ধু বালুচরের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বালুচরে কোনোপ্রকার যানবাহন চলাচল করছে না। ফলে উপজেলার কৃষকেরা তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। যমুনার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি মালবাহী ঘোরার গাড়ি কৃষি পণ্যসহ অন্যান্য মালামাল আনা-নেওয়া করছে। এসব ঘোড়ার গাড়িতে কৃষকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে তাদের কৃষিফসল বাজারজাত করছেন।আবার জমিতে সার কীটনাশকও ঘোড়ার গাড়ি দিয়েই পরিবহন করে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষি ফসলের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে ফসল বিক্রি করতে গিয়েও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ বছর রবি মৌসুমে চরাঞ্চলে ভুট্টা, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, পিঁয়াজসহ শত কোটি টাকার ফসলের ফলন হয়েছে। যার সবগুলো ফসল কৃষকদের ঘোড়ার গাড়ি দিয়েই পরিবহন করতে হবে। বিকল্প কোনো উপায় নেই।

চরাঞ্চলের কষকরা জানান, ৩ কিলোমিটার রাস্তায় এক বস্তা মরিচ পরিবহন করতে ঘোড়ার গাড়ির ভাড়া বাবদ তাদের ১২০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। অপরদিকে নদীপাড় হতে সেই ফসল আবারও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা যোগে বাজারজাত করতে হচ্ছে। সেখানেও পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। তারা বলেন, বালুচরের জন্য যদি সরকার বিশেষ ধরনের কোনো রাস্তার পরিকল্পনা করেন। তাহলে সেই রাস্তা দিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলবে এবং কৃষিফসলের উৎপাদন খরচও কমবে। এতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, গত কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগে সড়ক নির্মাণের জন্য বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটি বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের এ সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে বগুড়ায় যমুনা নদীর নাব্য ফেরাতে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হতে সময় লাগবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে ডেজিং কাজ শুরু করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights