কলাপাড়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে রাখাইন ধর্মগুরুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

মৃত্যুর ৯৯ দিন পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু সংঘরাজ ভদন্ত উকোইন্দা মহাথেরোর জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।

উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে রাখাইন বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে এই আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো রাখাইন নর-নারী অংশগ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ভিড় করছেন অনুষ্ঠানস্থলে।

রাখাইন সম্প্রদায়ের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান কর্মসূচি চলছে। এছাড়া দেশবরেণ্য ভিক্ষুদের দেশনা প্রদান, ছন্দোগুণ পাঠ, রথ পরিক্রমা এবং ঐতিহ্যবাহী আলং নৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় মহাথেরোর অন্তিম রথযাত্রা, শবদেহ বহন, দোলনা ও শান্তির কুঠি দানকারীদের কাছে হস্তান্তর, ধর্মীয় সংগীত, পিণ্ডদান এবং আলং নৃত্য।

আয়োজকরা জানান, বরিশাল বিভাগের সংঘরাজ ও তুলাতলীপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত উকোইন্দা মহাথেরো ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর পরলোকগমন করেন। তিনি দীর্ঘ ৬৬ বছর বর্ষাবাস জীবন অতিবাহিত করেন। মৃত্যুর পর বিশেষ ব্যবস্থায় তার মরদেহ ৯৯ দিন বিহারে সংরক্ষণ করা হয়। শনিবার বিকেলে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

অ্যাডভোকেট রাখাইন চান চান বলেন, বৌদ্ধ বিহারের জ্যেষ্ঠ ভদন্তদের মৃত্যুর পর ঐতিহ্যগতভাবে এ ধরনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। সে কারণেই পরিবার-পরিজনসহ তিনি এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছেন এবং তিন দিনব্যাপী সব কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

কুয়াকাটার সীমা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভিক্ষু ইন্দ্রবংশী বলেন, বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ভদন্ত উকোইন্দা মহাথেরোর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে রাজকীয়ভাবে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়েছে, যা তিন দিনব্যাপী চলবে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বরিশাল অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক মংমিয়া বলেন, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য প্রয়াত ভদন্তের আধ্যাত্মিক জীবনকে স্মরণ করা এবং বৌদ্ধ ধর্মের নশ্বরতার দর্শনকে তুলে ধরা।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কমিটির সহ-সভাপতি মংখেলহ্লা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন হওয়ায় রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজারো মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি চলবে এবং শনিবার সংঘরাজের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights