জমি আছে দখল নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা খাল উদ্ধার ও খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অন্যতম অংশীজন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানটি নিজের জমিই দখলে রাখতে পারছে না। বর্তমানে পাউবোর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর জমি অবৈধ দখলদারদের কবজায় রয়েছে। দখলমুক্ত করার কিছুদিনের মধ্যে ফের বেদখল হচ্ছে জমি। অধিগ্রহণকৃত আরও ৯৯ হাজার একর জমির নামজারি সম্পন্ন না হওয়ায় সেগুলো নিয়েও জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ২২ হাজার ৬১৯ দশমিক ৭৫ একর। এর মধ্যে পাউবোর নিজস্ব জমির পরিমাণ ১ হাজার ৩১১ দশমিক ৩১ একর। অধিগ্রহণকৃত জমির পরিমাণ ২ লাখ ২১ হাজার ৩০৮ দশমিক ৪৪ একর। এ জমির ৩ হাজার ৪৯৬ দশমিক ৮৭ একরই রয়েছে অবৈধ দখলদারের নিয়ন্ত্রণে। নামজারি বহির্ভূত জমির পরিমাণ ৯৯ হাজার ১৫ দশমিক ৩৬ একর। সংস্থাটির ভূমি ও রাজস্ব পরিদপ্তর গত ২৪ সেপ্টেম্বর পাউবোর বোর্ড পরিচালকের দপ্তরে এ তথ্য পাঠায়। এর আগে গত আগস্টে পাউবোর ৪৯তম বোর্ড সভার সংস্থাটির জমির তালিকা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জের নিমতলা এলাকায় পাউবোর ভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা কয়েকটি ইমারত গুঁড়িয়ে দিয়ে এক একর জমি উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি সমানতালে চলছে পুনর্দখল। জমির তালিকা তৈরির আগেই গত বছরের মে মাসে মিরপুরের গোড়ান-চটবাড়ি পন্ডিং এলাকায় পাউবোর অধিগ্রহণ করা জায়গায় অভিযান চালিয়ে অসংখ্য অবৈধ দোকানপাট, শিল্পকারখানা ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়। উদ্ধার করা হয় প্রায় ১০০ একর জায়গা। পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সে অভিযানে ঢাকা বোট ক্লাবের দখলে থাকা ঢাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১১ একর জমিও উদ্ধার করেছিল পাউবো। আট মাসের মাথায় গত ফেব্রুয়ারিতে সে জমি ফের দখলে নিয়ে ফটক ও ৪০০ ফুট দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করেছে ক্লাবটি। অর্থাৎ উদ্ধারের জন্য তালিকা তৈরির পর নতুন করে বেদখল হচ্ছে পাউবোর জমি।
পাউবোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে খুলনা অঞ্চলেই সংস্থাটির প্রায় ২ হাজার ২৩ একর জমি দখলদারের কবজায় রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা অঞ্চলে ৫১৫ একর, কুমিল্লা অঞ্চলে ১১৫ একর, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২০৩ একর, সিলেট অঞ্চলে ৫ একর, রাজশাহী অঞ্চলে ২৬৬ একর, বরিশাল অঞ্চলে ৫২ একর, রংপুর অঞ্চলে ২৪১ একর, ফরিদপুর ৭৬ একর জমি অবৈধ দখলদারের কবজায় রয়েছে। অন্যদিকে অধিগ্রহণের পর যুগ পার হলেও নামজারি হয়নি অনেক জমির। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নামজারি না হওয়ায় এসব জমি বেদখল, অন্যের নামে নামজারিসহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সূত্র জানায়, শুধু রাজশাহী অঞ্চলেই ২৪ হাজার ৫৮৫ একর জমি নামজারি বহির্ভূত অবস্থায় আছে। বরিশাল অঞ্চলে আছে ১৭ হাজার ২২৮ একর, রংপুর অঞ্চলে ১৪ হাজার ৪৪ একর। মোট ৯৯ হাজার একরের বেশি জমি নামজারি বহির্ভূত অবস্থায় রয়েছে। এ ব্যাপারে পাউবোর মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দখলদারদের কবল থেকে জমিগুলো উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান আছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিচ্ছি। তাদের সহযোগিতা নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব তালিকা ধরে জমিগুলো উদ্ধার করা হবে। নামজারি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নামজারি না হলে অনেকে সুযোগ নিতে পারে- এ কথা সত্য। তবে ভূমি অফিসের কাজগুলো বিলম্বে হয়। আমরা লেগে আছি।
