আনফিট অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যুঝুঁকি!
সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা
খুলনা নগরীর ব্যস্ততম শিববাড়ি মোড়। ভর দুপুরে হঠাৎ করেই রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরে যায়। প্রথমে গাড়ির ইঞ্জিন ওভার হিট হয়ে বন্ধ হয়ে যায়, তার পর আগুন লেগে গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে গাড়িটি ভস্মীভূত হয়। সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি আদদ্বীন হাসপাতালে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা ঘটে।
খুলনা আদদ্বীন হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক হোসেন আলী জানান, ভারতে মিতসুবিশি মডেলে ১৪টি ছোট আকৃতির অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয় শহরের মধ্যে কম টাকায় রোগী পরিবহনে। কিন্তু দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করায় ৯টি অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পড়ে আছে। চালু থাকা একটিতে আগুন লেগে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে খুলনা সদর হাসপাতালের ভিতরে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লাগে। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বরের পর আর কখনোই নেওয়া হয়নি ফিটনেস সনদ। প্রায় ১৫ বছর ধরে আনফিট ওই অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
জানা যায়, খুলনার তিনটি সরকারি হাসপাতালের ১০টি অ্যাম্বুলেন্সের আটটিতে নেই ফিটনেস সনদ। আর বেসরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে ফিটনেসের কোনো বালাই নেই। মনিটরিং না থাকায় পুরোনো মাইক্রোবাস বা হায়েস গাড়ি ভিতরের দিকে কিছুটা পরিবর্তন করে অ্যাম্বুলেন্সের রূপ দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রুট পারমিট নেই। মাইক্রোবাস হিসেবে ব্যবহার করতে না পেরে ফিটনেসবিহিন এসব গাড়ি রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এটা চলছে সিন্ডিকেট করে।
গত বছরের ১৩ আগস্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে যাওয়ার পথে ডুমুরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্স খাদে পড়ে ময়না বেগম (৪৫) নামে রোগীর স্বজন নিহত হয়। দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক পালিয়ে যান। নিরাপদ সড়ক চাই, খুলনা মহানগর সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মুন্না জানান, ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩ শতাধিক অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে অধিকাংশ মানহীন। জেলাজুড়ে অবাধে চলছে আনফিট অ্যাম্বুলেন্স। বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে দুঃসহ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। হাসপাতালকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে রোগী নেওয়ার জন্য ঢুকতে দেয় না। স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। অনেক সময় লাশ পরিবহনে কথা কাটাকাটি হয় ও লাশ নিয়েও টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম জানান, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণে কথা জানান। আনফিট মাইক্রোবাস অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চলার কথা স্বীকার করে বিআরটিএ খুলনা পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযানে দ্রুত আনফিট গাড়ি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
