হরমুজ ইস্যুতে “ডিজিটাল যুদ্ধ” : ট্রাম্পকে ইরানি দূতাবাসগুলোর ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবার নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের লড়াই। সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে এক ধরনের “মিমস যুদ্ধ”, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। কখনো দাবি করেছেন ইরান তার সক্ষমতা হারিয়েছে, আবার কখনো ইরানে শাসন পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ দেওয়া একাধিক বক্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয় এই অনলাইন প্রতিক্রিয়া।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের কড়া ভাষার পোস্ট- যেখানে তিনি অশালীন ও ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং হুমকি দেন, তা ইরানের কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

এর জবাবে ইরানের বিভিন্ন দূতাবাস ও কর্মকর্তারা সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ইংরেজি ভাষায় তৈরি মিম ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। এসব পোস্টের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের বক্তব্যকে বিদ্রূপ করা।

গত ৩০ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের দূতাবাস একটি মিম পোস্ট করে জানায়- হরমুজ প্রণালির “চাবি হারিয়ে গেছে”, তাই এটি খোলা যাচ্ছে না। পরে একই সুরে জিম্বাবুয়ে ও বুলগেরিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকেও ‘চাবি হারিয়েছি’ উল্লেখ করে পোস্ট দেওয়া হয়।

তবে ঘটনাটি আরও মজার মোড় নেয় যুদ্ধবিরতির খবরের পর। হরমুজ খোলার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে জিম্বাবুয়ের ইরানি দূতাবাস আবার পোস্ট দেয়-“চাবি খুঁজে পেয়েছি।” এর পাশাপাশি গত ৫ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার ইরানি দূতাবাস এক পোস্টে ব্যঙ্গ করে লিখে- “যুক্তরাষ্ট্র শুধু হলিউডেই যুদ্ধ জেতে” যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দেয়।

ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা নিয়েও ব্যঙ্গ করে আরেকটি পোস্ট দেয় জিম্বাবুয়ের দূতাবাস। সেখানে বলা হয়- রাত ৮টা সময়টি সুবিধাজনক নয়, এটি দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে কিংবা সম্ভব হলে রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে পরিবর্তন করা যায় কি না, এমন “ভদ্র অনুরোধ” জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অনলাইন কার্যক্রম এখন বৈশ্বিক তথ্যযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ভাষায়, “যে মিম নিয়ন্ত্রণ করে, সেই জনমত নিয়ন্ত্রণ করে।” ফলে প্রচলিত সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি বর্তমান সংঘাত ক্রমেই রূপ নিচ্ছে ডিজিটাল প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে।

তথ্য সূত্র- আলজাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights