প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাঠ ফিরে পেল নিকুঞ্জের শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার একমাত্র খেলার মাঠটি দখল করে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনের প্রচেষ্টা প্রবল জনমত ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে পণ্ড হয়ে গেছে।
দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে এই অনিয়ম, জনস্বার্থ উপেক্ষা ও মাঠ দখলের বিষয়টি নিয়ে অব্যাহত সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিকুঞ্জ-২ কল্যাণ সমিতি অবশেষে তাদের ইস্যু করা সেই বিতর্কিত ও ‘কথিত’ অনুমতিপত্রটি বাতিল করে। মাঠটি পরিষ্কার করে খেলার উপযোগী করা হয়েছে।

এর আগে, গত রবিবার বিকেলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, রাতের মধ্যেই মাঠের সব অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে মাঠটি শিশুদের খেলার উপযোগী অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, সংবাদমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে এই ইস্যুটি গুরুত্ব পায়, যার ফলশ্রুতিতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। একটি সমাজকল্যাণ অধিদফতরে নিবন্ধিত আবাসিক কল্যাণ সমিতি কীভাবে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কিংবা ডিএমপির কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়া একটি উন্মুক্ত খেলার মাঠ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দিতে পারে এটাই প্রশ্ন।

সোমবার বিকেলে সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের উত্তর পাশে পড়ে থাকা কিছু ভাঙাচোরা ফুডকোর্টের অংশ ছাড়া বাকি পুরো মাঠ এখন দখলমুক্ত। ফিরে এসেছে শিশু-কিশোরদের উল্লাস। মাঠে খেলতে আসা ইশতিয়াক নামের এক তরুণ তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দিন খেলতে পারিনি। মেলা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা আবার মাঠ ফিরে পেয়েছি। আমরা চাই ভবিষ্যতে যেন কোনো অজুহাতেই আমাদের খেলার মাঠ এ রকম দখলদারিত্বের শিকার না হয়।

এ বিষয়ে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদ জানান, জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এবং খেলার মাঠের পরিবেশ নষ্ট করে কোনো ধরনের মেলা বা বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। নিকুঞ্জ-২ খেলার মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজনে কোনো যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না। তাই বিষয়টি নজরে আসতেই জনস্বার্থে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সচেতন সমাজ মনে করছে, বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকা ও জনমতের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণেই এই জয় সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যারা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অবৈধ বরাদ্দের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights