ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের শিল্প খাতে

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের করপোরেট দুনিয়ায়। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার চরম অস্থিরতায় এই অঞ্চলের বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সোমবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি আর জ্বালানির চড়া দাম কোম্পানিগুলোর মুনাফার লক্ষ্যমাত্রাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ এবং ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংকিং কর্পোরেশন ইতোমধ্যেই তাদের বিনিয়োগকারীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে। কোয়ান্টাস জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যের কারণে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তাদের জ্বালানি বাবদ খরচ প্রায় ৮০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বেড়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্থাটি তাদের বিমান ভাড়া বাড়ানোর পাশাপাশি কম লাভজনক অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর্থিক খাতেও এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ওয়েস্টপ্যাক জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান সুদের হারের কারণে তাদের মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা কমে আসছে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা এবং গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাসের আশঙ্কায় ব্যাংকটি তাদের জরুরি নিরাপত্তা তহবিলের পরিমাণ বাড়িয়েছে, যা করোনা মহামারীর পর এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নিউজিল্যান্ডের ব্যবসা-বাণিজ্যেও যুদ্ধের কালো ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে। দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার নিউজিল্যান্ড তাদের বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাস স্থগিত করেছে এবং জ্বালানি সংকটের কারণে মে ও জুন মাসের বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম বড় দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফনটেরা এবং এটু মিল্ক জানিয়েছে যে, শিপিং রুট পরিবর্তন এবং মালবাহী জাহাজ ভাড়ার বাড়তি খরচের কারণে চীনে তাদের পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের আগামী বছরের মুনাফায় বড় ধস নামাতে পারে।

প্যাকেজিং এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সংকট থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ওরোরা নামক প্যাকেজিং কোম্পানিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের বোতল উৎপাদন কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে এবং শেয়ার বাইব্যাক প্রোগ্রাম বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights